ফাইল ছবি
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। রোববার (৩০শে নভেম্বর) তিনি হাসপাতালের শয্যায় অল্প নড়াচড়া করতে পেরেছেন, কথাবার্তায় সাড়াও দিয়েছেন। চিকিৎসক ও বিএনপির নেতাদের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকা খালেদা জিয়া চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তাকে এখন তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে। শয্যাপাশে থাকা স্বজন কিংবা চিকিৎসকদের ডাকে মাঝেমধ্যে সাড়া দিচ্ছেন। কথা বলার চেষ্টাও করছেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার নতুন করে অবনতি হয়নি। বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন গ্রহণ কিছুটা ভালো। শারীরিক অবস্থার আরো কিছুটা উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে তারা বলেছেন, গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় কিছুটা উন্নতি থাকলেও এখনো তিনি ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় পৌঁছাননি। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
ওই সূত্রগুলো বলছে, পরিবারের চিন্তা থাকলেও রোববার পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিদেশে নিতে হলে দীর্ঘ ফ্লাইট, যাত্রাপথের শারীরিক চাপ এবং পরিবেশগত পরিবর্তন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখনো সেই ঝুঁকি নেওয়ার মতো পর্যায়ে যাননি খালেদা জিয়া। এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের অগ্রাধিকার—দেশেই সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরানো।
এদিকে চীনের একটি চিকিৎসক প্রতিনিধি দলের আজ সোমবার (১লা ডিসেম্বর) ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তারা চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেবেন বলে জানা গেছে দলীয় সূত্রে।
জানা গেছে, রোববারও খালেদা জিয়ার কিডনির ডায়ালাইসিস হয়েছে। তবে তিনি এখনো স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছেন না বা তার শারীরিক অবস্থা সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে শয্যাশায়ী খালেদা জিয়া। তার লিভারজনিত সংকট, কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসকষ্টসহ একাধিক শারীরিক জটিলতা একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় তার চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনে অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউ সমমানের হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) তাকে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার কিডনিতে জটিলতা, শরীরে পানি জমা ও শ্বাসকষ্ট—সব কটিকে সমন্বয় করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
খবরটি শেয়ার করুন