সোমবার, ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আছড়ে পড়তে পারে অন্ধ্র উপকূলে, বাংলাদেশে প্রভাব কতটা *** বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর *** সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ারেও রাজি পুলিশ: আইজিপি *** পুলিশ সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন আইজিপির *** অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আঘাত হানবে বুধবার, ২ নম্বর সতর্ক সংকেত *** জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী *** নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলায় নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় সেনাপ্রধানের বাধা, ‘নজিরবিহীন সংঘাত’ *** ঋতুস্রাবের সময় যেভাবে স্ত্রী রাশমিকার যত্ন নেন বিজয় *** গভীর নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে আঘাত হানবে কোথায় *** চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পে-স্কেলের ‘কবে’ প্রশ্নে কেন ভাইরাল রুনা লায়লা-এন্ড্রু কিশোরের গান

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৮:১১ অপরাহ্ন, ১৮ই আগস্ট ২০২৬

#

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল কবে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে অনেকের যেন ধৈর্যের শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে। দিনের পর দিন নতুন খবর আসে। নতুন আলোচনা হয়। নতুন সম্ভাবনার কথা শোনা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই একই প্রশ্ন—কবে?

এই ‘কবে’ প্রশ্নের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে আশির দশকের জনপ্রিয় বাংলা সিনেমার একটি গান। গানটি শুনলে যেন বর্তমান সময়ের সঙ্গে অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। গানটির কথায় আছে—‘কেউ জানে না’। আর পে-স্কেল নিয়ে মানুষের প্রশ্নও যেন ঠিক সেখানেই এসে থামে।

গানটি ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’—রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া। ‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমায় ব্যবহৃত এই গানটির কথা লিখেছিলেন প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। পর্দায় গানটির সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন জাফর ইকবাল ও ববিতা।

গানের সেই পরিচিত পঙ্‌ক্তি—‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন, দুজন দুজনার কত যে আপন, কেউ জানে না’—এখন যেন অন্য এক অর্থে ফিরে এসেছে। প্রেমের গানটি হয়ে উঠেছে পে-স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তার মজার প্রতীক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, জাফর ইকবাল ও ববিতাকে। পেছনে বাজছে রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠ। কয়েক দশক আগের সেই দৃশ্য এখন নতুন প্রজন্মের কাছেও হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী রুবেল মাহমুদ লিখেছেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা যে কবে শেষ হবে, জানি না। প্রতিদিনই নতুন নতুন খবর আসে। কিন্তু চূড়ান্ত খবর কবে আসবে, কেউ জানে না। এটা কবে জানা যাবে, সেটাও মনে হয় কেউ জানে না।’ ফারুক সাকিবের ভাষায়, ‘পে-স্কেল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা চলছে, তার সঙ্গে গানের কথা একেবারে মিলে গেছে। আমরা কেউ কিছু জানি না। কিন্তু প্রতিদিনই এই খবর প্রকাশ পায়।’

গানটির সঙ্গে এমন মিল খুঁজে পাওয়ার কারণও খুব সহজ। নতুন বেতন স্কেল নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কখন ঘোষণা হবে, কবে বাস্তবায়ন হবে, কত টাকা বাড়বে—এসব প্রশ্ন ঘুরছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না।

তাই কেউ লিখছেন, ‘পে-স্কেলের প্রেমে পড়ে সরকার আর কর্মচারী—দুজন দুজনার কত যে আপন, কেউ জানে না।’ কেউ আবার লিখছেন, ‘বেতন স্কেল আসবে—এই আশায় মাস যায়, বছর যায়। কিন্তু কবে আসবে, কেউ জানে না।’

আরেক নেটিজেন লিখেছেন, ‘পে-স্কেলের খবর জানতে গিয়ে এখন গান শুনি। কারণ সংবাদে উত্তর নেই, গানে অন্তত সুর আছে।’ কারও রসিকতা আরও একটু রোমান্টিক। হাসান ফকির লিখেছেন, ‘পে-স্কেল, তুমি আমার আশা; আমি তোমার অপেক্ষা। দুজন দুজনার কত যে আপন, কেউ জানে না।’

এই অপেক্ষার মধ্যে গানটির প্রেমের আবহও যেন নতুন রস পেয়েছে। একসময় যে গান ছিল দুজন মানুষের ভালোবাসার কথা, এখন সেটিই হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের অপেক্ষার গান। প্রেমে যেমন প্রিয় মানুষের একটি কথার জন্য অপেক্ষা থাকে, তেমনি পে-স্কেলের একটি চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মেহেদী হাসান লিখেছেন, ‘আগে গানটি শুনলে প্রেমের কথা মনে হতো। এখন শুনলে পে-স্কেলের কথা মনে হয়। সময় সত্যিই মানুষকে বদলে দেয়।’ নাজমা আক্তার লিখেছেন, ‘রুনা লায়লা আর এন্ড্রু কিশোর তখন ভালোবাসার গান গেয়েছিলেন। আমরা এখন সেই গানে বেতন স্কেলের ভবিষ্যৎ খুঁজছি। কী অদ্ভুত সময়!’

গানটির জনপ্রিয়তাও কমেনি। ইউটিউবে গানটির দর্শনসংখ্যা ১৮ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রায় এক কোটি ৮০ লাখবার দেখা হয়েছে গানটি। পুরোনো সিনেমার গান হয়েও এর আবেদন এখনো রয়ে গেছে। সেই আবেদনই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।

‘অবুঝ হৃদয়’ ছিল ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের সিনেমা। এতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ববিতা ও চম্পা। জাফর ইকবাল ছিলেন সিনেমাটির অন্যতম প্রধান অভিনেতা। সময়ের সঙ্গে সিনেমার সেই শিল্পীদের অনেকেই আর আমাদের মধ্যে নেই। জাফর ইকবাল চলে গেছেন বহু বছর আগে। গানটির শিল্পী এন্ড্রু কিশোরও আর পৃথিবীতে নেই। সিনেমাটির পরিচালক মোস্তফা আনোয়ারও ২০১৫ সালের ১২ মে মারা যান। ববিতা ও চম্পা এখন চলচ্চিত্র থেকে অনেকটাই দূরে।

মোস্তফা আনোয়ার ছিলেন দেশের চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক। ‘অবুঝ হৃদয়’ ছাড়াও তিনি ‘কাজল লতা’, ‘আঁখি মিলন’, ‘কাশেম মালার প্রেম’, ‘পুষ্পমালা’, ‘সমর্পণ’, ‘বাংলার মা’, ‘আশ্রয়’ ও ‘ফাঁসি’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের তালিকায় নানা ধরনের গল্প ও আবেগের উপস্থিতি ছিল। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয় একটি চলচ্চিত্রজীবন।

গানটির গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলও আজ স্মৃতির মানুষ। বীর মুক্তিযোদ্ধা এই প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি মারা যান। তার লেখা অসংখ্য গান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে। তার লেখা এই গানও সময়ের সীমানা পেরিয়ে টিকে আছে।

তখন গানটি ছিল ভালোবাসার। দুজন মানুষের অদৃশ্য টান ছিল তার কথায়। আজ সেই গানেই মানুষ খুঁজে পাচ্ছেন নিজেদের অপেক্ষা। খুঁজে পাচ্ছেন অনিশ্চয়তা। খুঁজে পাচ্ছেন একটু হাসির জায়গা।

আসলে গান কখনো শুধু গান হয়ে থাকে না। সময় বদলালে তার অর্থও বদলে যায়। একটি পুরোনো সুর নতুন কোনো ঘটনার সঙ্গে মিশে যেতে পারে। একটি প্রেমের পঙ্‌ক্তি হয়ে উঠতে পারে সামাজিক রসিকতার ভাষা।

‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’—এই লাইন একসময় ছিল ভালোবাসার ঘোষণা। এখন তার পরের কথাটিই যেন সবচেয়ে বেশি সত্যি মনে হচ্ছে—‘কেউ জানে না।’ পে-স্কেল কবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও আপাতত যেন ওই গানের সুরেই আটকে আছে—কেউ জানে না।

তবে অপেক্ষা আছে। প্রত্যাশা আছে। আর আছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাসি-ঠাট্টা। পুরোনো প্রেমের গান তাই নতুন সময়ের নতুন গল্প বলছে। কয়েক দশক পেরিয়ে এসে গানটি যেন বলছে, কিছু অপেক্ষার শেষ হয়, কিছু অপেক্ষা শুধু দীর্ঘ হয়। আর সেই দীর্ঘ অপেক্ষার নাম এখন—পে-স্কেল।

ভাইরাল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250