ছবি: সংগৃহীত
কৃষির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁয়ের সনমান্দী ইউনিয়নের মশুরাকান্দা গ্রামে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে কলার বিশাল বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষক আব্দুস সোবহান (৬০)। এখানে অনেক চাষী কলা চাষাবাদ করেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। অন্য ফলের তুলনায় কম খরচে বেশি লাভ পাওয়ায় কলা চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
সরেজমিনে জানা যায়, নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অধিকাংশ কলা গাছে ফল ধরেছে। প্রতিনিয়ত আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ দেখতে আসেন তার এ বাগান। অনেকে আবার তার কাছ থেকে কলা চাষাবাদ করার পরামর্শও নিচ্ছেন। নিয়মিত গাছে সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ পরিচর্যা করে আসছেন তিনি।
আব্দুস সোবহান বলেন, ‘তিন জাতের প্রায় ১ হাজারের বেশি কলা গাছ আছে জমিতে। ফলন ভালো হলেও গতবারের চেয়ে কিছুটা কম। ঝড়ে একশ’র বেশি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও আমি বেশ খুশি। সোনারগাঁয়ে লিচু চাষ বেশি হলেও কলা গাছে কম খরচে তুলনামূলক বেশি লাভবান হওয়া যায়। লিচু গাছে ফলন পেতে প্রায় ১ বছর সময় লাগে। কলা গাছে ৩ মাস পর পর ফলন পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: কেঁচো সারে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা বিলকিস
তিনি বলেন, ‘কলা গাছ চাষাবাদে বিঘাপ্রতি মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। আর লাভের অঙ্ক হিসাব করলে বছরে প্রতি বিঘা থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। প্রতি কাঁদি কলা ৩০০-৬০০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। বছর শেষে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারি। অধিকাংশ সময় কলা বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না। পাইকাররা বাগানে এসে কলা কিনে নিয়ে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিকাজের সঙ্গে ২০ বছর ধরে জড়িত থাকলেও কলা গাছের বাগান করেছি ৩ বছর ধরে। ১৯৯১ সালে বিদেশ গিয়ে এই জমি কিনি। তখন থেকেই আমার কৃষির প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল। তাই ১৫ বছর পর দেশে ফিরেই কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়ি। এরই ধারাবাহিকতায় লিচু চাষাবাদের পাশাপাশি কলা চাষাবাদ করছি।’
এসি/ আই.কে.জে