রবিবার, ১৫ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বৈষম্য, গ্রেপ্তার, মৃত্যু ও যুদ্ধের নীরব ভুক্তভোগী বাংলাদেশিরা *** ইরানে আরও তিন সপ্তাহ হামলা চালাবে ইসরায়েল *** সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন, সরকারি ও বিরোধী দলের বাহাস *** ‘রাষ্ট্রপতি অস্তিত্বহীন সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে পারেন না’ *** ‘৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার নির্দেশ কারা দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার’ *** ডিজিএফআই–প্রধানের দিল্লি সফরে সম্পর্কের বরফ গলার আভাস *** ছারপোকা নির্মূলের সহজ সমাধান আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা *** যে কারণে হাদি হত্যার বিচারে বিলম্ব, জানালেন আসিফ নজরুল *** নাগরিকদের সৌদি আরব ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র *** সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের বিতর্ক

ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে নিরাপত্তার শঙ্কা

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, ৩রা এপ্রিল ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবের রেশ এখনো কাটেনি। ঈদ ঘিরে টানা ৯ দিনের ছুটি চলমান আছে। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে গেছেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। দীর্ঘ এ ছুটিতে  রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন হবে? সেটা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন রয়েছেন। ছুটির সময়ে রাজধানী ফাঁকা হয়ে গেছে।

ফলে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই আশংকাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে। লম্বা ছুটিতে ঘরমুখী মানুষ নানা প্রতারণা ও অপরাধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঈদের আগেই রাজধানীতে বেশ কয়েকটি আলোচিত চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত ২৬শে মার্চ ভোরে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কে ছয়তলা একটি ভবনে দুর্র্ধর্ষ ডাকাতি হয়। র‌্যাব পরিচয়ে একদল ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করেন ও বেঁধে রেখে ভবনের গয়নার দোকান ও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রায় সাড়ে ৩৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেন। 

একপর্যায়ে তারা বাড়ির মালিককেও অপহরণের চেষ্টা করেন এবং পুলিশের ওপরও হামলা চালান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করেন। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।ডাকাতিতে ব্যবহৃত র‌্যাব লেখা কালো রঙের দুটি জ্যাকেট, তিনটি কালো রঙের র‌্যাব লেখা ক্যাপ, একটি মাইক্রোবাস, পাঁচটি মুঠোফোন, একটি লোহার ছেনি ও একটি পুরোনো লাল রঙের স্লাই রেঞ্জ জব্দ করেছে। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নেওয়া হলেও জনমনে স্বস্তি ফেরেনি। বরং অজানা আতঙ্ক নিয়ে অনেক মানুষই নাড়ীর টানে ঢাকা ছেড়েছেন।

ঢাকা মহানগরীর জনগণ এবারের লম্বা ছুটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কায় রয়েছেন। কারণ, এবার অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছেড়েছেন। তাই বাসাবাড়ি ফাঁকা রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও অনেক দিন ধরে বন্ধ থাকবে।আর এ ফাঁকা শহরে অপরাধ বিশেষ করে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের অবস্থাও অনেকটাই নড়বড়ে।

তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, এবার ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ছাড়াও আনসার সদস্যরা এ সময় মাঠে থাকবেন। এছাড়া পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে বিশেষভাবে সক্রিয় করা হয়েছে। 

সারাদেশেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতি রোধে বিশেভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো নগরীর নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গে মাঠে থাকছেন ৪২৬ জন অক্সিলারি পুলিশ। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এলাকার নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তারা পুলিশের সহায়ক হিসাবে কাজ করবেন, তথ্য দেবেন এবং অপরাধীদের আটকে সহায়তা করবেন। তারা মূলত ঈদের সময় বাসাবাড়ি, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় কাজ করবেন।

বাস্তবতা হলো, এখনও পুলিশের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার অভাবে এমনিতেই চুরি-ডাকাতি আশংকাজনকভাবে বেড়েছে। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে।

এইচ.এস/

নিরাপত্তা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250