ফাইল ছবি (সংগৃহীত)
২০১৬ সালের মে মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তুরস্কের উদ্যোগে। এর বিশেষ সহযোগিতায় ছিল ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ওই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত পৃথিবীর সব দেশে একই দিন থেকে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
সম্মেলনে তুরস্ক, কাতার, জর্ডান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরোক্কোসহ ৫০টি দেশের ধর্মীয় পণ্ডিত এবং বিজ্ঞানী অংশ নেন। ইন্টারন্যাশনাল হিজরি ক্যালেন্ডার ইউনিয়ন কংগ্রেস নামে পরিচিত ওই সম্মেলনে হিজরি ক্যালেন্ডার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানের মধ্যে যে বিভক্তি, সেটা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সম্মেলনে।
সম্মেলনে দুটি প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল। প্রথমত, সারা বিশ্বের জন্য দ্বৈত বর্ষপঞ্জি চালু করা, পূর্ব গোলার্ধের জন্য একটি আর পশ্চিম গোলার্ধের জন্য একটি। আর দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল, সবাইকে একটি বর্ষপঞ্জির মধ্যে নিয়ে আসা। শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ একটি বর্ষপঞ্জির পক্ষেই মত দেন।
তুরস্কের 'প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের' সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট মেহমেট গোরমেজ তখন তুর্কি সংবাদপত্র ডেইলি সাবাহ'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বলেন, নতুন বর্ষপঞ্জি মেনে নিতে কিছু দেশ হয়তো অসুবিধায় পড়বে, কিন্তু এটি যাতে বিশ্বজুড়ে গৃহীত হয়, সে ব্যাপারে ওআইসি তাদের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে।
ওই সম্মেলনে বিশ্বের নামকরা পণ্ডিতরা পরামর্শ করে ঠিক করেছিলেন যে, একটা দেশে চাঁদ দেখা গেলে মুসলমানপ্রধান অন্য দেশেও সেটা মানা হবে। অর্থাৎ, একটা দেশে চাঁদ দেখা হলেই মুসলমানপ্রধান সব দেশে পরদিন রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন হবে। এতে বিশ্বের সব দেশে একই দিন ঈদ উদযাপন হবে।
তবে ওআইসির ওই সিদ্ধান্ত কিছু দেশ গ্রহণ করেছিল, আবার কিছু দেশ গ্রহণ করেনি। ফলে সব দেশে একই দিন ঈদ উদযাপন হয় না।
এইচ.এস/
খবরটি শেয়ার করুন