ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটির পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন মাইনী বন বিশ্রামাগারের সীমানায় চোখ পড়লে দেখা যায় অচেনা এক বৃক্ষ। দেখতে পুরোপুরি চালতার মতো। তবে চেনা চালতা ফলের বদলে এখানে ঝুলছে থোকায় থোকায় কমলা রঙের ছোট ফল। দেখতে অনেকটা ডুমুরের মতো।
ভালো করে খেয়াল করলে দেখা গেল ডুমুর নয়। বেশ বয়সী বৃক্ষ। উচ্চতাও কম নয়। পুরো বাংলোজুড়ে প্রাচীন সব বৃক্ষ। তবে ফলের কারণে এই গাছটিকে আলাদা মনে হল। গোটা গাছ জুড়ে বড় বড় সবুজ পাতা। বিশ্রামাগারের সীমানা ঘেঁষে চলে গেছে মাইনী বাজারের সড়ক। সড়কের উপর পড়ে আছে প্রচুর ফল। বৃক্ষটির আসল নাম বন চালতা।
বন চালতা গাছটির বয়স প্রায় শত বছর। ১৯২৭ সালে মাইনীতে রেঞ্জ কর্মকর্তার এই বিশ্রামাগারটি নির্মাণ করা হয়। এর দশ বছর আগে থেকেই বনচালতার গাছটি সেখানে ছিল। এটি কেউ রোপণ করেনি। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে। সেই হিসেবে এই গাছের বয়স হবে প্রায় একশ বছর। বন চালতা খুব ধীরে বড় হয়। তাই এটির আকার দেখে বয়স বুঝা যায় না।’
আরও পড়ুন: বস্তায় আদা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা
স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানুষ চাকমারা এটিকে অগোয্যা বলে ডাকে। বনচালতার ফুল মাঝেমধ্যে পাহাড়ের হাটগুলোতে বিক্রি করতে দেখা যায়। এটিকে সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। স্থানীয়রা এটিকে ভেষজ ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করে বলে জানা যায়। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া বৃক্ষটির কাঠ বেশ মূল্যবান। স্থানীয়ভাবে এই গাছের কদর রয়েছে। বনচালতার ইংরেজি নাম ‘ডগ টিক’ বা নেপালি এলিফ্যান্ট আপেল। বনচাতলা চালতারই সমশ্রেণী। এটি মূলত মাঝারি আকারের বৃক্ষ হলেও শতবর্ষী এই বনচালতা বেশ বড়সড়। পাতা দেখতে একেবারেই চালতা গাছের মতো, খাঁজকাটা।
বন বিভাগের কর্মীরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। আর বর্ষার শুরু থেকেই পুরো বৃক্ষটি ফুল আর পাতায় ভরে যায়। বর্ষা জুড়ে পুরো গাছে ফল থাকে। আকার মার্বেল সাইজের। কমলা হলুদ রঙে মোড়ানো। ফলের উপর হালকা ঢেউ থাকে। তবে বন চালতা খাওয়া যায় না। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও সিলেট ও টাঙ্গাইলে দেখা যায় এই বনচালতা।
এসি/ আই.কে.জে