বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইরানের মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে খামেনিকে *** ড. ইউনূস কি রাষ্ট্রপতি হওয়ার অপেক্ষায়? *** ‘পুলিশ হত্যাকাণ্ড কোনো অবস্থাতেই দায়মুক্তি পেতে পারে না’ *** হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি স্থানে ৪ বাংলাদেশি জাহাজ *** দুদিনের সফরে ঢাকায় মার্কিন সহকারী মন্ত্রী পল কাপুর *** আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব *** ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আরব আমিরাত *** ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে বাংলাদেশ আঘাতপ্রাপ্ত হবে’ *** যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ‘পুনর্গঠন-বাণিজ্য’ করবে চীন, কিনবে সস্তায় তেল *** ঢাকার আইসিইউতে ৭ শতাংশ রোগীর শরীরে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক

চীন-ভারত শত্রু নয়, অংশীদার হওয়া উচিত: দিল্লিতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৩৯ অপরাহ্ন, ২০শে আগস্ট ২০২৫

#

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভারত ও চীনের একে অপরকে শত্রু বা হুমকি হিসেবে না দেখে বরং সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। দিল্লি সফরে গিয়ে এ কথা বলেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা কমাতে এ সফর করছেন তিনি। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে এটি দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

সোমবার (১৮ই আগস্ট) দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত পৌঁছান ওয়াং ই। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্কের একটি কঠিন সময়কে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাইছি।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠকে বাণিজ্য, তীর্থযাত্রা, নদীসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সীমান্ত বিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, ‘সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরেছে ভেবে ভালো লাগছে। গত কয়েক বছরে যে অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে, তা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো ছিল না।’

গত বছরের অক্টোবরেও বিরোধপূর্ণ হিমালয় সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে টহলব্যবস্থা নিয়ে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। এরপর থেকে দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, চীন ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য তিব্বতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে। ভারতও চীনা পর্যটকদের জন্য ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করেছে এবং নির্ধারিত পথের মাধ্যমে সীমান্ত-বাণিজ্য পুনরায় শুরু করার আলোচনাতেও রাজি হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিষেবা পুনরায় চালুর খবরও শোনা যাচ্ছে।

ওয়াং ইর এ সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে, যা এশিয়ার দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের মধ্যে সর্বোচ্চ।

হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এক মন্তব্যে ভারতের বিরুদ্ধে ‘রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের’ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ভারত যদি আমেরিকার কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে চায়, তবে তাকে তেমনভাবেই আচরণ করতে হবে।

ওয়াং ইর সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও বহু মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা চাই, যার মধ্যে একটি বহু মেরুকেন্দ্রিক এশিয়াও থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।’

চলতি মাসের শেষের দিকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীন যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত সাত বছরে এটিই হবে তার প্রথম চীন সফর। শিগগির চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মোদি বৈঠক করবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জে.এস/

এস জয়শঙ্কর ভারত-চীন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250