বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাংবাদিক কাজলের পৈতৃক বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙা প্রাচীর, কেটে নেওয়া হলো মায়ের লাগানো গাছ *** কেন আঁকা হয়েছিল, কাদের চাপে মুছে ফেলা হলো সঞ্জীব চৌধুরীর গ্রাফিতি *** নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও বার্ট্রান্ড রাসেলের ১১৪ বছরের পুরোনো চিঠি *** সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের *** ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর *** বিভাগীয় সদরগুলোতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র, অনিশ্চয়তায় চার প্রজন্মের ঐতিহ্য *** টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৯ ইউনিট *** ভারতের লাদাখ অঞ্চলের ২৮ এলাকার নতুন নাম দিয়ে মানচিত্র প্রকাশ করল চীন, দিল্লির প্রতিবাদ *** এক ম্যানচেস্টার হেরেছে, আরেক ম্যানচেস্টার জিতবে তো

নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও বার্ট্রান্ড রাসেলের ১১৪ বছরের পুরোনো চিঠি

শাওন দত্ত

🕒 প্রকাশ: ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, ১৫ই অক্টোবর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যে নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যে ১১৪ বছর আগে লেখা একটি ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করেছে নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ। ১৯১২ সালের ১৩ অক্টোবর লেখা চিঠিটিতে ধর্ম, দর্শন ও উপনিষদের একটি শ্লোক নিয়ে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। রাসেলের লেখা ধর্মবিষয়ক একটি প্রবন্ধ পড়ে তার যে উপলব্ধি হয়েছিল, চিঠিতে তা-ই তুলে ধরেছিলেন কবি।

কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভ থেকে চিঠিটির তথ্য ও ছবি পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির রাসেল গবেষণা কেন্দ্রের ‘ডিয়ার বার্টি’ নামের ডিজিটাল সংগ্রহেও চিঠিটি সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড সফরের সময় ১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে রাসেলের পরিচয় হয়। পরে রাসেলের একটি প্রবন্ধ পড়ে রবীন্দ্রনাথ তাকে চিঠি লেখেন। প্রবন্ধটির নাম ‘দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন’, যা প্রকাশিত হয়েছিল ‘দ্য হিবার্ট জার্নাল’ সাময়িকীতে। চিঠিটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘ইট রিমাইন্ডেড মি অব আ ভার্স ইন দ্য উপনিষদ’—অর্থাৎ, ‘এটি আমাকে উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল’।

ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিঠিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, চিঠিতে ধর্মবিষয়ক প্রবন্ধ, উপনিষদের শ্লোক এবং দুই চিন্তাবিদের দর্শনচর্চার যোগসূত্র উঠে এসেছে। চিঠিটি প্রকাশের মাধ্যমে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের এই বৌদ্ধিক যোগাযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত তথ্যেও চিঠিটির বিষয়বস্তু ও দুই নোবেলজয়ীর পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি শুধু দুই বিখ্যাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত যোগাযোগের দলিল নয়; বরং ভারতীয় আধ্যাত্মিক চিন্তা ও পাশ্চাত্যের দর্শনচর্চার মধ্যে সংলাপের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও তা গুরুত্বপূর্ণ।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রাসেলকে জানান, তার ধর্মবিষয়ক প্রবন্ধটি পড়ে উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা মনে পড়েছে। এই শ্লোকের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছিলেন, মানুষের সীমাবদ্ধ ব্যক্তিসত্তা যখন অসীমের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার আনন্দ উপলব্ধি করে, তখন সে জাগতিক ভয় থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজে পায়। রবীন্দ্রনাথের এই ব্যাখ্যায় ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের আত্মোপলব্ধি ও অস্তিত্ব সম্পর্কে তাঁর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটে।

ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল গবেষণা কেন্দ্রের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, রাসেলের প্রবন্ধটি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের গণ্ডির বাইরে ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রকৃতি বোঝার একটি প্রয়াস। প্রবন্ধটি তৈরিতে রাসেলের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী অটোলিন মোরেলেরও ভূমিকা ছিল। রাসেলের ছাত্র লুডভিগ উইটগেনস্টাইন প্রবন্ধটির ভাষা ও বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, ধর্ম ও দর্শনের মতো জটিল বিষয়ে রাসেলের চিন্তাভাবনা সে সময় তার সমসাময়িক চিন্তাবিদদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতায় জন্ম নেওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গান ও চিত্রকলায় তার অবদান বিস্তৃত। তার বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের বিশিষ্ট নেতা। পারিবারিক পরিবেশে সংস্কৃত সাহিত্য, উপনিষদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও দার্শনিক ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। পরবর্তী সময়ে তার সাহিত্য ও দর্শনে এই বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার প্রভাব দেখা যায়।

১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ, সৃজনশীলতা এবং ভারতীয় ও পাশ্চাত্য জ্ঞানচর্চার সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ ইউরোপের সাহিত্যজগতে বিশেষ সাড়া ফেলে। ১৯১৩ সালে এই কাব্যের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তিনি। নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নিজের ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি পাশ্চাত্যের সাহিত্যজগতে বাংলা কবিতার ভাবনা পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার মানবতাবাদী চিন্তাভাবনা ও সামাজিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধি দেয়। তবে ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণতা নিয়ে তার চিন্তা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। তার লেখা গান বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক জীবনে আজও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

অন্যদিকে, ১৮৭২ সালের ১৮ মে জন্ম নেওয়া বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, প্রাবন্ধিক ও সমাজচিন্তক। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে পড়াশোনার মধ্য দিয়ে তার বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের বিকাশ ঘটে। গণিতের ভিত্তি, যুক্তিবিদ্যা ও বিশ্লেষণী দর্শনে তার কাজ বিংশ শতাব্দীর দর্শনচর্চায় গভীর প্রভাব ফেলে। গণিতবিদ আলফ্রেড নর্থ হোয়াইটহেডের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ‘প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা’ তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এ ছাড়া ‘দ্য প্রবলেমস অব ফিলোসফি’ ও ‘এ হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি’ বইয়ের মাধ্যমে তিনি জটিল দার্শনিক বিষয় সাধারণ পাঠকের কাছেও সহজবোধ্য করে তোলেন।

যুক্তিবিদ্যা ও গণিতের বাইরে ধর্ম, নৈতিকতা, রাজনীতি, শিক্ষা এবং সামাজিক স্বাধীনতা নিয়েও রাসেল লিখেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের কারণে তিনি পেশাগত ও ব্যক্তিগত সংকটের মুখে পড়েন। পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন। ১৯৫৫ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে তিনি রাসেল-আইনস্টাইন ঘোষণাপত্র প্রকাশে উদ্যোগী হন। পারমাণবিক অস্ত্রের বিপদ সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক আদর্শ ও চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে তার বৈচিত্র্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৫০ সালে রাসেলকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওয়েলসে তার মৃত্যু হয়।

রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের চিঠিটি তাই শুধু দুই নোবেলজয়ীর পরিচয়ের স্মারক নয়। এটি এমন এক সময়ের দলিল, যখন ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের দুই মনীষী পরস্পরের চিন্তাভাবনার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ উপনিষদের আধ্যাত্মিক উপলব্ধির আলোকে রাসেলের ধর্মবিষয়ক প্রবন্ধকে দেখেছিলেন। আর রাসেলের লেখায় উঠে এসেছিল ধর্ম ও মানুষের চিন্তা সম্পর্কে অনুসন্ধানের একটি ভিন্ন ধারা। শতাধিক বছর পর চিঠিটি আবার সামনে আসায় তাদের চিন্তার এই সংযোগ নতুন করে পাঠ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

৬০ বছর বয়সে এসে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সালমান খান

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, ১৫ই অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক কাজলের পৈতৃক বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙা প্রাচীর, কেটে নেওয়া হলো মায়ের লাগানো গাছ

🕒 প্রকাশ: ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ১৫ই অক্টোবর ২০২৬

কেন আঁকা হয়েছিল, কাদের চাপে মুছে ফেলা হলো সঞ্জীব চৌধুরীর গ্রাফিতি

🕒 প্রকাশ: ০১:০০ পূর্বাহ্ন, ১৫ই অক্টোবর ২০২৬

নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও বার্ট্রান্ড রাসেলের ১১৪ বছরের পুরোনো চিঠি

🕒 প্রকাশ: ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, ১৫ই অক্টোবর ২০২৬

সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের

🕒 প্রকাশ: ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, ১৪ই অক্টোবর ২০২৬

Footer Up 970x250