সোমবার, ২৪শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাজারে আসছে নওগাঁর লোভনীয় আম

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৩৪ অপরাহ্ন, ২০শে মে ২০২৪

#

ছবি: সংগৃহীত

ধান উৎপাদনের পাশাপাশি বিগত কয়েক বছর আম উৎপাদনে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে নওগাঁ। তাই আমের নতুন রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে উত্তরের খাদ্যভাণ্ডার বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁ। আগামী ২২শে মে থেকে গুটি আম/স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে বাজারে আসছে নওগাঁর আম। এছাড়া নওগাঁর ঐতিহ্য আম্রপালি আমসহ অন্যান্য জাতের সুস্বাদু ও সুমিষ্ট আম পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ভোক্তাদের।

বর্তমানে আমের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা সাপাহার। পাশাপাশি পোরশা, নিয়ামতপুর, ধামইরহাটসহ জেলার ১১টি উপজেলাতে গড়ে উঠছে বাণিজ্যিক আমবাগান। আর দেশের মধ্যে শুধু নওগাঁতেই উৎপাদন হওয়া সুস্বাদু আম্রপালি আমের সুনাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবছরই নওগাঁয় উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু ও সুমিষ্ট আমের চাহিদা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আম সংগ্রহ করার জাতীয় ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিল রেখে এক সভায় বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ওই সভায় আমচাষী, ব্যবসায়ী, কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ২২শে মে গুটি আম/স্থানীয় জাত, ২৮শে মে থেকে গোপালভোগ, ২রা জুন ক্ষীরসাপাত/হিমসাগর, ৭ই জুন নাক ফজলি, ১০ই জুন ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ২০শে জুন ফজলি, ২২শে জুন আম্রপালি এবং ১০ই জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন আম সংগ্রহ করা যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৩৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। যা থেকে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। বিভিন্ন বাগানে উচ্চ মূল্যের ব্যানানা ম্যাংগো, মিয়াজাকি, কাটিমন, গৌড়মতি, বারি আমচাসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১৬ জাতের আম চাষ করা হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আমের মুকুল কম আসায় ও প্রচণ্ড দাবদাহে কিছু আম ঝরে যাওয়ার কারণে আমের ফলনে কিছুটা তারতম্য হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

জাতভেদে নাকফজলি ৮৯৮ হেক্টর, ল্যাংড়া ১ হাজার ৬১৫ হেক্টর, ফজলি ১ হাজার ৪০৮ হেক্টর, গোপালভোগ ৬১০ হেক্টর, ক্ষীরশাপাত ১ হাজার ৪৭ হেক্টর, বারি-৪ আম ২ হাজার ৪০২ হেক্টর, বারি-১১ আম ৪২ দশমিক ৫০ হেক্টর, মল্লিকা ৩৭ হেক্টর, কাটিমন ১৫৪ দশমিক ৫০ হেক্টর, গৌড়মতি ১৪৩ দশমিক ২৫ হেক্টর, হাড়িভাঙা ৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর, ব্যানানা ম্যাংগো ১০৭ দশমিক ৫০ হেক্টর, আশ্বিনা ২ হাজার ৩২২ দশমিক ৫০ হেক্টর, কুমড়াজালি ১৩ হেক্টর, গুটি/স্থানীয় ৬০৭ হেক্টর এবং আম্রপালি ১৮ হাজার ৪২২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। জেলায় যে পরিমাণ আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে আম্রপালি ৬০ দশমিক ৮০ শতাংশ।

আরো পড়ুন: সহজে মাশরুম চাষ করে লাভবান হতে পারেন যে কেউ

সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আমচাষি মিলন হোসেন বলেন, ‘দিন দিন আম চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাগানের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে এই আমচাষ। আমের মুকুল থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত বিঘাতে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। তবে চলতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ খরার কারণে বিঘা প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। এছাড়া খরায় কিছু আম ঝরে পড়ার কারণে ফলন কিছুটা কম হবে। তাই আমের দাম সঠিক পেলে লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তাই এবার আম চাষিদের বাঁচাতে সঠিক ওজনে আম বিক্রয় করা ও ঠিকঠাক দাম বেধে দেওয়ার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

এসি/  আই.কে.জে


নওগাঁর আম

খবরটি শেয়ার করুন