ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির সাবেক সভাপতি ও দলটির পরিচিত মুখ দিলীপ ঘোষ শুক্রবার (১৮ই এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিয়ে করেছেন দলীয় সহকর্মী রিংকু মজুমদারকে। তার বিয়ের খবর সামনে আসার পর থেকে দুইদিন ধরে আলোচনা চলছে ভারত ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খবর বিবিসি বাংলার।
এর একটা অন্যতম কারণ, দিলীপ প্রায় ৬০ বছর বয়সে এসে বিয়ে করলেন। অন্য কারণটি হলো- হিন্দু পুনরুত্থানবাদী কট্টরপন্থী সংগঠন ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের’ (আরএসএস) ‘প্রচারক’ হিসেবে কাজ করা দিলীপ বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। দ্বিতীয় কারণটি নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে। কারণ, আরএসএসের প্রচারক থাকাকালীন বিয়ে করার নিয়ম নেই।
বিবিসি বাংলা বলছে, দিলীপ ঘোষ ১৯৮৪ সাল থেকে আরএসএসের প্রচারক থাকলেও তাকে যখন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি হিসেবে পাঠায় সংগঠনটি, তখন থেকে তিনি আর ‘প্রচারক’ নন। পশ্চিমবঙ্গের আরএসএসের নেতা ড. জিষ্ণু বসু বলেন, ‘প্রচারকরা বিয়ে করতে পারবেন না, এটা আরএসএসের নিয়ম। গোলওয়ালকরের আমল থেকে এ নিয়ম চলে আসছে।’
তার কথায়, ‘দিলীপের বিয়ে নিয়ে আরএসএসের কেউ বিস্মিত হননি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমেই বেশি আলোচনা দেখছি। যেসব গণমাধ্যম বছরে একবারও আরএসএসের খবর ছাপে না, তারাই দেখছি দিলীপের বিয়ে নিয়ে সব থেকে বেশি উৎসাহিত।’
বিজেপি ও আরএসএসের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দিলীপ ঘোষের অশীতিপর মায়ের অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা যে, তার রাজনীতিবিদ পুত্র বিয়ে করে সংসারী হবেন। বছর চারেক ধরেই তার মা ছেলেকে বিয়ের কথা বলছেন।
শুক্রবার কলকাতার লাগোয়া নিউ টাউনে অতি ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের উপস্থিতিতে আইনি ও বৈদিক মতে তাদের বিয়ে হয় বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তারা দলের তরফ থেকে দিলীপ ঘোষ ও তার নববধূকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আরএসএসের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো প্রচারককে সম্পূর্ণ সময়টাই সংগঠনের কাজে দিতে হয়। পরিবার প্রতিপালনের জন্য যদি সময় বের করতে হয়, তাহলে সংগঠনকে পুরো সময় দেওয়া সম্ভব নয় বলে প্রচারকদের বিয়ে করার নিয়ম নেই।
বাংলা, ওড়িশা, সিকিম ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আরএসএসের যে ক্ষেত্র, তারই ‘সহ-ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ’ ড. জিষ্ণু বসু বলেন, ‘একজন প্রচারককে পুরো সময়টাই আরএসএসের কাজে দিতে হয়। আলাদা করে পরিবারকে দেওয়ার মতো সময় প্রচারকদের থাকে না। সেজন্যই মাধব গোলওয়ালকরের সময় থেকে প্রচারকদের বিয়ে না করার নিয়ম রয়েছে।’
বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অটল বিহারি বাজপেয়ী, প্রথম তিন সাধারণ সম্পাদকের অন্যতম লালকৃষ্ণ আদভানি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি- তিনজনই আরএসএসের প্রচারক ছিলেন। বাজপেয়ী বিয়ে করেননি, মোদি বিয়ে করেন বলে প্রচারণা থাকলেও তার সংসার করার তথ্য জানা যায় না।
লালকৃষ্ণ আদভানী সংসার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন। তবে এর আগে তিনি আরএসএসের প্রচারকের জীবন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। বিয়ে বা সংসারের ব্যাপারে নিয়মগুলো শুধু পুরুষদের ক্ষেত্রেই। কারণ, আরএসএসের কোনো নারী সদস্য নেই। নারীদের জন্য ‘রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি’ নামে সমান্তরাল একটি সংগঠন আছে।
এইচ.এস/
খবরটি শেয়ার করুন