ছবি: সুখবর ডটকম
সঞ্জয় কুলু, বাগেরহাট
শরণখোলার বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে ‘চায়না বুচনা' ব্যবহারের কারণে দেশি মাছ প্রায় শূন্য হয়ে পড়ছে। এই যন্ত্র দিয়ে অতি সূক্ষ্মভাবে মাছ ধরা হয়, ফলে পোনা থেকে শুরু করে সব ধরনের মাছ ধ্বংস হচ্ছে। এতে জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয় জেলে নির্মল কুলু বলেন, “একসময় এই খালে জালে জাল ভরে মাছ উঠত। এখন চায়না বুচনায় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।"
আরেক জেলে আব্বাস উদ্দিন জানান, “পোনা না বাঁচলে সামনে আর মাছই থাকবে না।" এ বিষয়ে উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস জানান, চায়না বুচনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, উপকূল ও নদীনির্ভর অঞ্চলে অবৈধ নেট জাল, খরচি জাল, চিংড়া জাল, বাধা জাল, ট্রলিং এবং বিষ প্রয়োগে মাছের সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এসব জালে ধ্বংস হচ্ছে মাছের পোনা, বাধা জালে থমকে যাচ্ছে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ, আর বিষে নষ্ট হচ্ছে পুরো জলজ প্রাণিসম্পদ।
মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ ধরা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। মা মাছ ও পোনা ধ্বংস হলে দেশীয় প্রজাতি হারিয়ে যাবে।"
তিনি জানান, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও জনসচেতনতা ছাড়া এই সংকট সামাল দেওয়া কঠিন।
জিলবুনিয়া গ্রামের জেলে ইউনুস হাওলাদার বলেন, “যে নদীতে দিনে ১০–১৫ কেজি মাছ পেতাম, এখন দুই কেজিও মেলে না। অবৈধ জাল ও বিষ আমাদের জীবিকা শেষ করে দিচ্ছে।"
খবরটি শেয়ার করুন