ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার (২৫শে জানুয়ারি) নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে এক তরুণী তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন। এরপর তারেক রহমান তরুণীকে থামিয়ে বলেন, ‘আপনি বা আপনারা যারা আমাকে প্রশ্ন করবেন, হয় আমাকে “ভাইয়া” বলতে পারেন, অথবা “আংকেল” বলতে পারেন।’
এ কথা শোনার পর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। তারপর তারেক রহমান আবার বলেন, ‘বয়সের হিসাবে “আংকেল” বলতে পারেন। তবে “আংকেল” ডাকটি শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। “ভাইয়া” বললে ভালো লাগবে, “স্যার” বলার দরকার নেই।’
‘স্যার’ ডাকা তরুণীর নাম তাসনুবা তাশরি। তিনি পড়াশোনা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে চতুর্থ বর্ষে। ওই শিক্ষার্থী প্রশ্ন করেন, নির্বাচিত হলে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? অর্থায়নের বিকল্প কোনো পথ আছে কি না?
প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণ পাওয়া সহজ নয় এবং এ ক্ষেত্রে নানা জটিলতা আছে। তবে সব আইন রাতারাতি বদলানো সম্ভব না হলেও যতটুকু সংশোধন করা যায়, তা করে ছোট উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা যেন জামানতের কারণে পিছিয়ে না পড়েন, সেদিক গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরিকল্পনা তারা নিয়েছেন।
তারেক রহমান জানান, তাদের পরিকল্পনায় আরেকটি বিষয় রয়েছে। এটি হলো বিদেশে পড়তে যেতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়ন। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী জাপান বা চীনের মতো দেশে পড়তে যেতে চাইলেও ভিসা ফি বা বিমানের টিকিটের খরচ জোগাতে না পেরে সুযোগ হারান। এ জন্য উদ্যোক্তাদের মতো করেই বিদেশে পড়তে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ চালু করা যায় কি না, সে চিন্তাও তাদের পরিকল্পনার রয়েছে।
পলিসি ডায়ালগে তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির নীতি, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। আলোচনায় পরিবেশ সুরক্ষা, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি, অভিবাসী শ্রমিকের দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সংস্কার, পাহাড়-সমতল বৈষম্য, ব্লু ইকোনমি, কৃষি সিন্ডিকেট, এনআইডি-পাসপোর্টের হয়রানি—বহু ইস্যুতে প্রশ্ন আসে। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
খবরটি শেয়ার করুন