ছবি: সংগৃহীত
মাঠের ভেতরের লড়াই তো আছেই, কিন্তু ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরেও অনেক পরিচয় থাকে। কারও হাতে গিটার, কেউ আবার গান লেখেন। কেউ আবার মঞ্চ মাতান ডিজে হয়ে। ব্রেট লি যেমন শুধুই গতি তারকা নন, ছিলেন রক ব্যান্ড সিক্স অ্যান্ড আউটের বেস গিটারিস্টও।
ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ডিজে ব্রাভোকে দেখা যায় ডিস্ক জকি হিসেবেও মাতিয়ে তুলতে। তার মানে ক্রিকেটাররা শুধু মাঠেই দ্যুতি ছড়িয়ে সীমাবদ্ধ নন।
নেদারল্যান্ডসের ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাউড শিল্পী নন, তবে নাম লিখিয়েছেন কনটেন্ট নির্মাতার খাতায়। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছেন ডাচরা। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার ক্রিকেটের বাইরেও অন্য জগতে নিজেদের তুলে ধরেন। ও’ডাউডই যেমন একাধারে ট্রাভেল ব্লগার, ইউটিউবার আর ডিজে।
ছোট ক্যামেরা তার নিয়মিত সঙ্গী। আজ রোববার (৩১শে আগস্ট) দুপুরে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের সংবাদ সম্মেলনেও হাজির হয়েছিলেন হাতে ‘গোপ্রো’ আর ‘ওসমো ৩৬০’ ক্যামেরা নিয়ে।
তবে দৃশ্যটা অন্য রকম ছিল। ব্যাটার নোয়াহ ক্রোয়েস ছিলেন সংবাদ সম্মেলনের মূল মুখ, তার পাশে ছিলেন দলের মিডিয়া ম্যানেজার কোরি রুটগারস। কিন্তু হঠাৎ করেই সাংবাদিকদের সারিতে গিয়ে বসে পড়েন ওপেনার ও’ডাউড। তারপর শুরু করেন একের পর এক প্রশ্ন, একেবারে সাংবাদিক সেজে!
রুটগারসও মজা করে পরিচয় করিয়ে দেন, ‘হ্যালো বন্ধুরা! আজ আমাদের সঙ্গে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়েছে ম্যাক্স।’
ক্রোয়েস হেসে উত্তর দিলেন সতীর্থের সব প্রশ্নের। ডাকনাম ‘টংকার’ কীভাবে এল, সেটা জানার কৌতূহল ছিল ও’ডাউডের। উত্তরে ক্রোয়েস বললেন, ‘আমাদের মিডিয়া ম্যানেজারই দিয়েছে নামটা। আগে আমাকে ‘‘ট্রাকস’’ ডাকত! বলত, আমি নাকি এমএলবি ব্যাটারের মতো হিট করি। পরে সেটা বদলে হলো ‘‘টংকার’’। মনে হচ্ছে এবার তুমি এই নামের আসল উত্তরসূরি।’
হাসি-ঠাট্টায় জমে উঠল সংবাদ সম্মেলন। এরপর আবার প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ও’ডাউড, ‘বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে কার খেলাই তোমার সবচেয়ে ভালো লাগে?’ বিন্দুমাত্র না ভেবে ক্রোয়েস বলে দিলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান।’
ও’ডাউড ২০০৯ সালে ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলেন, সেখানে ভ্লগ আপলোড করেন মাঝেমধ্যেই। বাংলাদেশের আসার পর নতুন কনটেন্টের নাম দিয়েছেন ‘নতুন শুরু’। ক্রিকেট, ভ্রমণ আর মজা সবকিছুই উঠতে আসছে তার কনটেন্টে। তবে খেলতে এসে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনে যাওয়ার দৃষ্টান্ত শুধু ক্রিকেট কেন, খেলার জগতেই তো বিরল।
খবরটি শেয়ার করুন