সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান *** নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৩৭টি বাড়ি: গণপূর্ত উপদেষ্টা *** ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে টাকার নোটের ভিডিও প্রচারে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক *** ‘নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন ৯৯ শতাংশ প্রার্থী’ *** আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক হল কি না’ এ নিয়ে আরো প্রশ্ন উঠবে: টিআইবি *** প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ *** পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব *** কেমন ছিল আগের সরকারগুলোর মন্ত্রিসভার আকার *** মন্ত্রিসভার আকারে সংস্কার প্রস্তাবের প্রতিফলন ঘটবে? *** ছোট মন্ত্রিসভায় যাদের নাম

কেমন ছিল আগের সরকারগুলোর মন্ত্রিসভার আকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:৫৭ অপরাহ্ন, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। শপথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা চল্লিশের কাছাকাছি হতে পারে।

মন্ত্রিসভায় দলের নবীন ও প্রবীণদের যেমন সমন্বয় করা হবে, তেমনি জোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট সদস্য হিসেবেও একাধিক মুখ থাকতে পারেন।

মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে ৪৩টি। বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। 

বিএনপির নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এরপর সংসদ ভবনের ৯ তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেওয়া সদস্যরা।

পরে সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। এরপর ওই দিন বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।

সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। 

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ৪৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দুটি মন্ত্রণালয় করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুটি করে বিভাগে পৃথক করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগ দুটিকে একীভূত করেছে।

২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ জন হয়েছিলেন।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২ জন। পরে বিভিন্ন রদবদল ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ সংখ্যা ৬২ জন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৬০ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান একটি মাঝারি আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে যাচ্ছেন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক বড় মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলে পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আবার ছোট মন্ত্রণালয়ে একাধিক মন্ত্রী হলে কাজে শৃঙ্খলা থাকে না। এ জন্য ২০ থেকে ২২ জন মন্ত্রী এবং আট থেকে ১০ জন প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। এতে বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রীরা। ছোট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন প্রতিমন্ত্রীরা। 

সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করে ৩৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব রেখেছে। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে আর্থিক অবস্থা, সেখানে মন্ত্রিসভার সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত। এ ছাড়া ডিজিটাল যুগে একজন লোক অনেক কাজ করতে পারে। এ জন্য জনবলের সংখ্যা কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।’

জে.এস/

মন্ত্রিসভা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250