ছবি: সংগৃহীত
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে দায়িত্ব পরবর্তী সময়েও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন।
দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রধান উপদেষ্টাকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি দেশে নতুন নয়। এর আগেও ২০০৬ সালের ২৯শে অক্টোবর একটি গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টাকে একই ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
২০০৬ সালের সেই প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে দায়িত্ব ছাড়ার পর দেশে অবস্থানকালীন সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' হিসেবে ঘোষণা করার বিধান রাখা হয়েছিল। সে সময় মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ২০০২ সালের একটি আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করার কথাও উল্লেখ ছিল।প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা
২০০৬ সালের প্রজ্ঞাপনে নিরাপত্তা ও মর্যাদা তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকলেও, ২০২৬ সালের নতুন প্রজ্ঞাপনে মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব সাইফুল্লাহ পান্না স্বাক্ষরিত এই নতুন আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও মুহাম্মদ ইউনূস এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা নেওয়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ড. ইউনূস কি মবের ভয়ে এক বছর পর্যন্ত এসএসএফ নিরাপত্তা নিয়েছেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।
আজ রোববার (১লা মার্চ) নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’তে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যত দায়িত্ব শেষ হয়। পরবর্তীতে নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেয় এবং মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন হয়। দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও প্রায় দুই সপ্তাহ সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’য় অবস্থান করেন ড. ইউনূস। পরে তিনি গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবনে চলে যান।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের বিশেষ নিরাপত্তা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিন মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রের 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' (ভিআইপি) হিসেবে বিবেচিত হন এবং এসএসএফসহ নির্ধারিত নিরাপত্তা সুবিধা পান।
মাসুদ কামাল জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ড. ইউনূসকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।
মাসুদ কামাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘আগের আইনে যেখানে তিন মাসের বিধান ছিল, সেখানে নতুন করে এক বছর করা হলো কেন? এটি কি সম্ভাব্য জনরোষ বা মব পরিস্থিতির আশঙ্কা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত?’
তার দাবি, দায়িত্বে থাকার সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না—সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
মাসুদ কামাল সমালোচনা করে বলেন, যদি নিরাপত্তা প্রয়োজন হয়, তবে সমপর্যায়ের অন্য সাবেক রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
মাসুদ কামালের মতে, বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নয়; বরং নীতিগত সমতার প্রশ্নও এখানে জড়িত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালনকারী কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি আইনের প্রয়োগে সমতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
খবরটি শেয়ার করুন