ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক দম্পতিকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার মো. খলিল ও তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একই এলাকার মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।
ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার খুকি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে মাছের খামারে কাজ করেন, কিন্তু সফিক বেতন দেয়নি। বেতন চাইতে গেলে সফিক দাবি করেন, তার স্বামী খলিল ইয়াবা সেবন করে সব টাকা খরচ করেন। গেল ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় কষ্টে দিন কেটেছে। এরপর তিনি স্বামীকে সফিকের কাজে যেতে বারণ করেন, যা নিয়ে সফিক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
ওই নারী আরও বলেন, আজ সকালে বাড়ির পাশে নদীতে তার স্বামী জাল বসান। অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ওই জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় সফিক তার স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তার ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তার স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও পেটানো হয়। যুবদল নেতা সফিক তার খামারে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ওই নারী অভিযোগ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সফিক বলেন, ‘খুকির পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে তার স্বামী আমার মাছ চুরি করেন। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার পথে খুকি ও তার স্বামী আমাকে আক্রমণ করে এবং আমার নাক ফাটিয়ে দেয়।’
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন বলেন, ‘ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরটি শেয়ার করুন