ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পত্যগের পরিকল্পনা করছেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বারা তিনি অপমানিত বোধ করছেন—গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছিলেন। যদিও গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেননি। আপাতত তার পদত্যাগ করার কোনো লক্ষ্মণও রাজনীতিতে দৃশ্যমান নয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। নির্বাচনের পর সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিএনপির সরকার চাইলে তিনি এই পদে তার মেয়াদ পূর্ণ করতে রাজি আছে। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ আছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নবনীতা চৌধুরী বলছেন, নির্বাচনের আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের কথা বলা এবং নির্বাচনের পর কালের কণ্ঠের সাক্ষাৎকারে মেয়াদ পূর্ণ করার কথা বলা—সাহাবুদ্দিন দুটিই বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইঙ্গিতে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে সম্ভাব্য সমঝোতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং দলীয় কৌশল নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন নবনীতা চৌধুরী। তার মতে, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের মতো বড় সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্ন জড়িত থাকতে পারে।
নিজের ইউটিউবভিত্তিক চ্যানেল 'নবনীতা চৌধুরীর বয়ানে' আজ শুক্রবার (১৩ই মার্চ) প্রকাশিত এক ভিডিওতে নবনীতা চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিকে সরানোর মতো সিদ্ধান্ত কোনো দল একা নেয় না; এর পেছনে বড় রাজনৈতিক সমীকরণ থাকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এমন কোনো উদ্যোগ নেয় প্রধান বিরোধী দল, তাহলে তার রাজনৈতিক বিনিময় কি হতে পারে? তার ভাষায়, প্রশ্নটা হচ্ছে—বিএনপি যদি রাষ্ট্রপতিকে সরানোর উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিনিময়ে জামায়াত কি পাবে?
নবনীতা চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট ও সমঝোতার রাজনীতি নতুন কিছু নয়। অতীতেও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও হিসাব-নিকাশ কাজ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো কিছুই নিছক নীতির প্রশ্নে হয় না; প্রায়ই এর পেছনে রাজনৈতিক লেনদেন থাকে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনীতির বিভিন্ন শক্তি নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি ইস্যুটি রাজনৈতিক দরকষাকষির একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে। তার মন্তব্য, রাজনীতিতে সব সময় প্রশ্ন থাকে—কে কী পেল এবং কী দিল।
নবনীতা চৌধুরীর বিশ্লেষণে উঠে আসে যে, রাষ্ট্রপতি অপসারণের মতো সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এলে তা কেবল আইনি বা সাংবিধানিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ক্ষমতার ভারসাম্য, রাজনৈতিক জোট এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণও। তিনি বলেন, যদি সত্যিই এমন কোনো উদ্যোগ সামনে আসে, তাহলে দেখতে হবে এর রাজনৈতিক লাভ কার দিকে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। কখনো দূরত্ব, আবার কখনো সমঝোতার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে। তবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে এ ধরনের কোনো আলোচনার বাস্তব রূপ কতটা সামনে আসে। তবে রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে উত্থাপিত প্রশ্নটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন