শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ইসরায়েলের গোপন পদ্ধতি কী, প্রামাণ্যচিত্রে যা উঠে এসেছে *** দাফন নাকি দাহ, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা–বাবার টানাটানিতে হিমঘরে লাশ *** দিল্লি সফরে রাশিয়া থেকে ‘দুর্গসম’ লিমুজিন এনেছেন পুতিন, এর বৈশিষ্ট্য কী *** আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে *** ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার *** গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট লংমার্চে মিটলে আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী *** ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির একটিরও সভাপতি পেল না বিরোধী দল *** ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬: দিল্লিতে আসছেন যেসব বিশ্বনেতা ও ব্যবসায়ী *** সংসদে অকথ্য ভাষায় গালাগালির শিকার হয়েছেন, অভিযোগ রুমিন ফারহানার *** শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ ভিক্ষুর প্রেসিডেন্টের ক্ষমা বাতিল, অবশিষ্ট সাজা ভোগের নির্দেশ

সুখবর এক্সপ্লেইনার

ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ইসরায়েলের গোপন পদ্ধতি কী, প্রামাণ্যচিত্রে যা উঠে এসেছে

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৯ অপরাহ্ন, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ফাইল ছবি

গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কী ধরনের গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, তার কিছু বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে নতুন একটি প্রামাণ্যচিত্রে। ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর ২৪ সদস্যের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নির্মিত ‘নাজা’ নামের ওই প্রামাণ্যচিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক লক্ষ্য শনাক্তকরণ, মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও গোপন নজরদারিসহ বিভিন্ন পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।

ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোর পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্রটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এটি এবারের উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একমাত্র প্রামাণ্যচিত্র এবং মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন লায়ন পুরস্কারের প্রতিযোগী। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ৮০ মিনিটের ছবিটি তেল আবিবের ভবনের ছাদে রাতে ধারণ করা হয়েছে এবং গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলা ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার পেছনের ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরেছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারদাতাদের বেশির ভাগই ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তাদের অনেকে গাজায় বোমা হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও দূর থেকে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে রাতের অন্ধকারে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাদের মুখ ও কণ্ঠস্বরও প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবর্তন করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রামাণ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রে হামলার সিদ্ধান্তের মধ্যেই হিসাব করা হতো। তাদের একজনের ভাষায়, সেখানে ‘শিল্পকারখানার মতো ব্যাপক হত্যাকাণ্ড’ চালানো হয়েছে বলে মনে হয়েছে। রয়টার্স বলেছে, এসব বক্তব্য ইসরায়েলি সরকারের যুদ্ধসংক্রান্ত প্রকাশ্য বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

‘নাজা’ নামটিও এই ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। গার্ডিয়ান ও ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের তথ্য অনুযায়ী, এটি ইসরায়েলি সামরিক পরিভাষার একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যা কোনো হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক নিহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় কতজন সাধারণ মানুষ মারা যেতে পারেন, সেই সম্ভাব্য সংখ্যাকেও সামরিক হিসাবের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো বলে সাক্ষাৎকারদাতারা জানিয়েছেন।

প্রামাণ্যচিত্রটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে। সাক্ষাৎকারদাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থার কাছে গাজার বিপুলসংখ্যক মানুষের মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্য ছিল। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে হামাসের তুলনামূলক নিচু পর্যায়ের সদস্য বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হতো। এরপর তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে হামলা চালানো হতো।

গার্ডিয়ানের চলচ্চিত্রবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থা পরিচিত হামাস সদস্যদের ফোন ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে একই ধরনের আচরণ করা বিপুলসংখ্যক অন্য ফোন শনাক্ত করতে পারত বলে সাক্ষাৎকারদাতারা দাবি করেছেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ফোনের মালিককে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।

রয়টার্সও জানিয়েছে, প্রামাণ্যচিত্রে এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থার কথা এসেছে, যেখানে গাজার মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করা হতো। কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তার নিজের ফোন ছাড়াও আশপাশের ফোনের গতিবিধি ও যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করা হতো বলে সাক্ষাৎকারদাতারা দাবি করেছেন।

এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি ভয়াবহ অভিযোগ হলো—লক্ষ্য করা ব্যক্তিরা বাড়িতে থাকলে তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও রাতে হামলা চালানো হতো। ফলে শুধু সন্দেহভাজন ব্যক্তি নয়, তার স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য স্বজনও হামলায় নিহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতেন। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারদাতারা এমন হামলার কথা বলেছেন যেখানে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সম্পর্কে সামরিক বাহিনী অবগত ছিল।

গার্ডিয়ানের চলচ্চিত্র পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারে একটি নির্দিষ্ট ‘ভুলের হার’-এর কথাও এসেছে। একজন সাক্ষাৎকারদাতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ভুল শনাক্তকরণের অনুমোদিত হার থাকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। আরেকজন সম্ভাব্য বেসামরিক নিহতের সংখ্যাকে প্রতি অভিযানের সঙ্গে হিসাব করার কথা বলেছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে; কারণ প্রামাণ্যচিত্রের সব সাক্ষাৎকারই পরিচয় গোপন রেখে নেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ফোনের ওপর নজরদারির বিষয়টিও প্রামাণ্যচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্য ব্যক্তিদের ফোনে প্রবেশ করা হতো এবং তাদের অবস্থান ও যোগাযোগের ওপর নজর রাখা হতো। এমনকি কোনো ব্যক্তিকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা গেলে সেই তথ্যও হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হতে পারত বলে তারা দাবি করেছেন।

প্রামাণ্যচিত্রে শুধু লক্ষ্য শনাক্তকরণ নয়, পুরো এলাকাকে ধ্বংস করার কৌশলের কথাও এসেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী কোনো এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নিজেদের ঘরে অবস্থান করছেন জানা থাকার পরও পুরো ভবন বা এলাকা ধ্বংস করার ঘটনা ঘটেছে বলে সাক্ষাৎকারদাতারা জানিয়েছেন। একটি ঘটনায় একটি ভবনে বিপুলসংখ্যক মানুষ থাকার সম্ভাবনা জানা সত্ত্বেও হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাদ্য পাওয়ার আশায় বের হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার বিষয়টিও প্রামাণ্যচিত্রে এসেছে। গার্ডিয়ানের চলচ্চিত্র পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, গাজায় খাদ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাধারণ মানুষ কোনো এলাকায় প্রবেশের পর সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন ‘নিষিদ্ধ এলাকা’য় ঢুকে পড়েছেন কি না, তা তারা বুঝতে পারতেন না। এরপর তাদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাও সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

তবে ‘নাজা’র পরিচালকদ্বয় তাদের কাজকে কয়েকজন বিচ্ছিন্ন সেনার যুদ্ধাপরাধের দলিল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাননি। বরং তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক নির্দেশনা, নীতিমালা, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত পুরো ব্যবস্থাকে বোঝানো। গার্ডিয়ানকে দেওয়া তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কোনো একজন সেনাকে দায়ী করার বদলে এমন একটি ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশকে একসঙ্গে দেখাতে চেয়েছেন, যার মাধ্যমে এই ধরনের হামলা সম্ভব হয়েছে।

সাক্ষাৎকারদাতাদের কয়েকজন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি গোপন গোয়েন্দা ইউনিটে কাজ করতেন বলে প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে। ওই ইউনিট সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরে তথ্য পাঠাত বলেও বলা হয়েছে। ইউনিটটির এক সদস্য তাদের কাজের উদ্দেশ্যকে ‘শান্তি নষ্ট করা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

এই তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রামাণ্যচিত্রের সাক্ষাৎকারদাতারা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনা নন। তাদের অনেকে পর্দার আড়ালে বসে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নির্মাতাদের মতে, গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার পেছনে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কাঠামোর একটি সমন্বিত ব্যবস্থা কাজ করেছে কি না, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ‘নাজা’ তৈরি করতে প্রায় তিন বছর ধরে গোপনে কাজ করেছেন আব্রাহাম ও জোর। ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যের সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি কণ্ঠ ও চেহারা পরিবর্তন করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির অপরাধের বদলে সামগ্রিক ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি দিতে চেয়েছে।

ইতালির চলচ্চিত্রবিষয়ক সংবাদমাধ্যম চিনেচিত্তা নিউজের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের শিল্পনির্দেশক আলবার্তো বারবেরা ছবিটিকে ‘যুগান্তকারী’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, শুধু সাক্ষাৎকার সংগ্রহ নয়, ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গাজায় তাদের ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলতে রাজি করাতে নির্মাতাদের প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে।

প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল উল্লেখযোগ্য। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভেনিসে ছবিটির প্রদর্শন শেষে প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো হয়। রয়টার্সও দীর্ঘ সময়ের এই অভিবাদনের কথা জানিয়েছে।

ছবিটির নির্মাতাদের জন্য ‘নাজা’ অবশ্য তাদের আগের কাজেরই এক ধরনের ধারাবাহিকতা। ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোর ছিলেন ২০২৫ সালে সেরা প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে অস্কারজয়ী ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর চার পরিচালকের দুজন। ওই ছবিতে তারা ফিলিস্তিনি পরিচালক বাসেল আদরা ও হামদান বালালের সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংস ও উচ্ছেদের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছিলেন। ‘নাজা’য় তারা একইভাবে আলাদা আলাদা ঘটনা জোড়া দিয়ে বৃহত্তর সামরিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও অন্য কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হয়। গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এই বিপুল প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটেই ‘নাজা’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবিটির পরিচালকরা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা তুলে ধরা নয়; বরং কীভাবে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি, সামরিক আদেশ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একত্র হয়ে ব্যাপক প্রাণহানির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, তা অনুসন্ধান করা।

তবে প্রামাণ্যচিত্রে দেওয়া সাক্ষ্যগুলো মূলত পরিচয় গোপন রাখা সাবেক বা বর্তমান ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের বক্তব্য। তাই তাদের প্রতিটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গার্ডিয়ানের চলচ্চিত্র পর্যালোচনাতেও এই সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বলেছে, ছবিটি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সরকারি ব্যাখ্যার বিপরীতে ভেতরের লোকদের বক্তব্য সামনে এনেছে।

প্রামাণ্যচিত্রটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো—এর বেশির ভাগ তথ্য সম্পূর্ণ নতুন নয়। ‘নাজা’ নির্মাণের আগে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি প্রকাশনা ‘নাইন সেভেন টু ম্যাগাজিন’, হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম ‘লোকাল কল’ এবং গার্ডিয়ানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য নির্ধারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার এবং গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়েছিল। নতুন ছবিটি সেই অনুসন্ধানগুলোর সঙ্গে দুই ডজনের বেশি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যকে যুক্ত করেছে।

ফলে ‘নাজা’কে শুধু একটি চলচ্চিত্র হিসেবে নয়, গাজা যুদ্ধের সামরিক কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানের দৃশ্যমান দলিল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ছবিটি যে প্রশ্ন সামনে এনেছে তা হলো—বেসামরিক মানুষের মৃত্যু যদি আগে থেকেই সম্ভাব্য ফল হিসেবে সামরিক পরিকল্পনার হিসাবের মধ্যে থাকে, তাহলে সেটিকে অনিচ্ছাকৃত ক্ষয়ক্ষতি বলা যায় কি না এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের দায় কোথায় গিয়ে শেষ হয়।

এই প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করছে না। গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর মাত্রা, হামলার ধরন, লক্ষ্য নির্ধারণে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য—সবকিছুই এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গভীর তদন্তের বিষয় হয়ে উঠছে। ‘নাজা’র ২৪ সাক্ষাৎকার সেই বিতর্কে নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।

ইসরায়েলি হামলা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ইসরায়েলের গোপন পদ্ধতি কী, প্রামাণ্যচিত্রে যা উঠে এসেছে

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৯ অপরাহ্ন, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাফন নাকি দাহ, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা–বাবার টানাটানিতে হিমঘরে লাশ

🕒 প্রকাশ: ০৫:২৯ অপরাহ্ন, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিল্লি সফরে রাশিয়া থেকে ‘দুর্গসম’ লিমুজিন এনেছেন পুতিন, এর বৈশিষ্ট্য কী

🕒 প্রকাশ: ০৫:০৭ অপরাহ্ন, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩০ অপরাহ্ন, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250