বৃহঃস্পতিবার, ২৫শে জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁস : তরুণ প্রজন্ম আর কত প্রতারিত হবে?

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ১২:৫৯ অপরাহ্ন, ৯ই জুলাই ২০২৪

#

ছবি - সংগৃহীত

চাকরি ক্ষেত্রে কোটা বাতিলের আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীরা যখন মাঠে, ঠিক তখনই চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের একটি অনুসন্ধানে প্রতিবেদনে আমরা জানতে পারলাম, বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন এক যুগ ধরে নিয়মিতভাবে ফাঁস হয়ে আসছে। এখন এই খবর যদি সত্য হয়, তাহলে এর দায়টা কে নেবে?

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা শেষে বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতে যোগদান করার। তাদের মধ্যে যেসব মেধাবী প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য চাকরিটি পায়নি তাদের দায়ভার কে নেবে? কাউকে না কাউকে তো এর দায়ভার নিতে হবে। জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) কিছু কর্মকর্তা এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত।

এর চেয়েও বড় ভয় ও আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে যারা সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের নিয়ে। যেই ছেলেমেয়েরা এখন আন্দোলন করছেন, তাদের অনেকেই চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে একধরনের শঙ্কা কাজ করবে, তারা হয়তো মেধার ভিত্তিতে সুযোগ পাবেন না। ভয়, শঙ্কা ও আশঙ্কা নিয়ে কি মেধার চর্চা করা সম্ভব? তাদের মধ্যে সব সময় একটা সংকোচ কাজ করবে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়নি তো?

আমরা ধরেই নিই, যারা বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চাকরি পান, তারা আসলেই মেধাবী। সেই জায়গা যদি সংকুচিত, কলুষিত হয়ে যায়, তাহলে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কোথায় যাবে?

যারা ফাঁসের সঙ্গে জড়িত; তাদের কারও কি বিচার হবে? এখন তো জানা যাচ্ছে, পিএসসির যেসব কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের অনেক টাকাপয়সা, গাড়ি–বাড়ি হয়ে গেছে। কেউ আবার এলাকায় বড় নেতাও বনে গিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই আমরা দেখছি, পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক একজন গাড়িচালক এখন বিশাল ব্যবসায়ী এবং এলাকার জনদরদী নেতা। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তার নাম এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি অফিসে গাড়িচালকের চাকরি করে কীভাবে তিনি এত বড় ব্যবসায়ী হলেন। এও দেখা যাচ্ছে, তিনি ও তার ছেলে দামি দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন।

পিএসসির প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন সরব। কিন্তু এতদিন কি এ সম্পর্কে কেউ কিছু জানতো না? কেন কেউ এসব নিয়ে এতদিন প্রশ্ন করেনি? সরকারের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কেন দেখেনি?

এখন এ ঘটনায় যদি কারো বিচার না হয়, তাহলে তো ভবিষ্যতে এমন আরও কাণ্ড হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তা ছাড়া পিএসসির কর্তাব্যক্তিরা কেন এর জন্য ক্ষমা চাইবেন না? তাদের তো অবশ্যই কৈফিয়ত দিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যাপারে আস্থার জায়গাটাও তাদের তৈরি করতে হবে।  

তাদের যদি বিচার না হয়, তারা যদি ভুল স্বীকার না করেন, যদি কৈফিয়ত না দেন তাহলে ধরে নিতে হবে, তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাহলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎটা আসলে কোথায়? এসব ঘটনার কি কখনো কোনো বিচার হবে না? চলতেই থাকবে? তরুণ প্রজন্মকে আর কত অন্যায়ের ভেতর দিয়ে যেতে হবে? তাদের আর কতভাবে প্রতারিত হতে হবে?

এমনিতেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের বিশাল একটা অংশ আজকাল পড়াশোনা শেষে বিদেশে পাড়ি জমাতে চান। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে আমরা যে আরও অনেক মেধাবীকে হারাচ্ছি না; এর নিশ্চয়তা কোথায়?

আই.কে.জে/

বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁস

খবরটি শেয়ার করুন