শনিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঢামেকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ আসিফ নজরুল, বেরোলেন বাগান গেট দিয়ে *** কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএসপিআরের বক্তব্য *** আসিফ নজরুলকে 'ভণ্ডামি বাদ দিতে' বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ *** অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করলে জেল ও জরিমানা *** মুরগি খাওয়া রোধে পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল মেছো বাঘ *** আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সময় তাহলে ফুরিয়ে এল *** লতিফ সিদ্দিকী যা বললেন আদালতে *** ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান *** আটকের ১২ ঘণ্টা পর মামলা লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক কার্জনসহ ১৬ জন কারাগারে *** নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জুতার মালা ও জেলের কথা মনে করিয়ে দিলেন ইসি

ভূমিকম্পের ঝুঁকি : আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ১২:৪৩ অপরাহ্ন, ৪ঠা ডিসেম্বর ২০২৩

#

২রা ডিসেম্বর (শনিবার) সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান। ঢাকা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। উৎপত্তিস্থল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ। দেশ যে ভূমিকম্পের অতি ঝুঁকিতে রয়েছে এ যেন তাই স্মরণ করিয়ে দিল। ছোটখাটো ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের আভাস দেয়। চলতি বছরে দেশব্যাপী এ পর্যন্ত ১২টি হালকা ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানার তথ্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এতটাই ঝুঁকিতে রয়েছে যে, রিখটার স্কেলে ৭ কিংবা এর বেশি মাত্রায় ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে এই তিন নগরীতে। ধসে পড়তে পারে বহু ভবন। এজন্য বড় দুর্যোগের আগেভাগেই তারা প্রস্তুতির তাগিদ দিয়েছেন।

একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনবহুল রাজধানী ঢাকা। এখানে লক্ষাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়তে পারে। পুরান ঢাকার উদাহরণ টেনেই বলা যায়, মারাত্মক ভূমিকম্প হলে এসব ঘিঞ্জি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর কোনো সুযোগই থাকবে না। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম নগরীও পড়বে বড় ঝুঁকিতে। গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় ভূমিকম্প হওয়ার মতো দুটি উৎস রয়েছে। এর একটি হচ্ছে ডাউকি ফল্ট, অন্যটি সাবডাকশন জোন। সাবডাকশন জোনটি উত্তরে সিলেট থেকে দক্ষিণে কক্সবাজার-টেকনাফ পর্যন্ত। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো এই সাবডাকশন জোন। এই জোনে ৮০০ থেকে হাজার বছরে কোনো বড় ভূমিকম্প হয়নি। এর দক্ষিণে টেকনাফ থেকে মিয়ানমার অংশে ১৭৬২ সালে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন ডুবন্ত দ্বীপ তিন মিটার ওপরে উঠে আসে। তাছাড়া সীতাকুণ্ড পাহাড়ে কাদাবালুর উদ্গিরণ হয়।

এ অবস্থায়, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি আগেই নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো এখনই ভূমিকম্প সহনীয় করতে হবে। ভূমিকম্প সহনীয় স্থাপনা তৈরি করতে হবে। বিল্ডিং কোড আপডেট করতে হবে এবং তা মেনে ভবন তৈরিতে মানুষকে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গেও মানুষের পরিচয় থাকতে হবে। তাদের আরও বেশি বেশি দুর্যোগ মোকাবিলার ট্রেনিং দিতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়াতে হবে। ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক সব পদক্ষেপ নেওয়া এখনই জরুরি।

আই. কে. জে/ 

ভূমিকম্পের ঝুঁকি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন