মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না *** ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়তে পারে *** সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প *** সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

নারী দিবসে থিম রঙ ‘বেগুনি’ব্যবহারের ইতিহাস কী

লাইফস্টাইল ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, ৮ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ রোববার (৮ই মার্চ) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন প্রচারণা পোস্টার এবং আয়োজনগুলোতে একটি রঙ বারবার সামনে আসে—বেগুনি বা পার্পল। অনেকেই এদিন বেগুনি পোশাক পরেন, ব্যাজ বা রিবন ব্যবহার করেন। কিন্তু কেন এ রঙ নারী দিবসের প্রতীক হয়ে উঠল—তা অনেকেরই অজানা।

নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এর সূত্র পাওয়া যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। সেই সময় যুক্তরাজ্যে নারীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছিল একটি সংগঠন—উইমেনস সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিকাল ইউনিয়ন। তাদের আন্দোলনের প্রতীক ছিল তিনটি রঙ—বেগুনি, সাদা ও সবুজ। সংগঠনটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বেগুনি ছিল মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক, সাদা পবিত্রতার এবং সবুজ আশার প্রতীক।

পরবর্তীতে এ রঙগুলো ধীরে ধীরে নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রেও বেগুনি রঙ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিসরে নারী দিবসের প্রতীকী রঙ হিসেবে বেগুনিকেই বেশি ব্যবহার করা হয়, যা নারীর মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নের বার্তা বহন করে।

বেগুনি রঙের গুরুত্ব শুধু আন্দোলনের ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ নয়। সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে এই রঙকে বিশেষ অর্থবহ হিসেবে দেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বেগুনি রাজকীয়তা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। অনেক সংস্কৃতিতে এটি শক্তি, আত্মমর্যাদা এবং সৃজনশীলতার প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মনোবিজ্ঞানের গবেষণাতেও রঙের প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রঙ মানুষের অনুভূতি ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বেগুনি রঙকে অনেক সময় সৃজনশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং মর্যাদাবোধের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণেও বলা হয়, রঙ মানুষের আবেগ ও উপলব্ধির সঙ্গে প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম।

তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বেগুনি রঙ ব্যবহার করা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি নারী অধিকার আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস, সংগ্রাম এবং সমতার ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার একটি প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়। বেগুনি রঙের একটি ব্যাজ বা পোশাক তাই অনেক সময় একটি সামাজিক আন্দোলনের স্মারক হয়ে ওঠে।

জে.এস/

নারী দিবস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250