শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুখবর এক্সপ্লেইনার

ভারত কি পারবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠন ঠেকাতে?

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০২:২৩ অপরাহ্ন, ৩রা এপ্রিল ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ভারতের নিরাপত্তাবিষয়ক থিংকট্যাংকের অনেকে মনে করেন, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক রাজ্যে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেখানের সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলা পশ্চিমাদের পক্ষে অনেকটাই সহজ হবে। ওই অঞ্চলে পশ্চিমারা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একটি ‘খ্রিষ্টান রাষ্ট্র’ গড়ে তুলতে চাইছে।

এ রাষ্ট্র গঠনে শুধু ভারতই নয়, মিয়ানমারের একাংশ এবং বাংলাদেশের বান্দরবানের কুকি অধ্যুষিত কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পশ্চিমা দেশের গোয়েন্দারা এ ব্যাপারে বেশ সক্রিয় বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

গত কয়েক দশক ধরে অতিমাত্রায় চীনের আর্থিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পশ্চিমাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এ অগ্রগতি কিছুতেই যেন ঠেকানো যাচ্ছে না। পশ্চিমা হিসাব কষে দেখেছে; চীনের নাকের ডগায় যদি একটি দুর্বল প্রকৃতির খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠন করা যায়, তাহলে এ রাষ্ট্র বরাবরই তাদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

ইউক্রেনকে ব্যবহার করে পশ্চিমারা যেমন রাশিয়ার খুব কাছে তাদের সামরিক শক্তি পৌঁছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, এ অঞ্চলে খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ঠিক একই কায়দায় তারা তাদের সামরিক শক্তি চীনের সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে। মূলত এ কারণেই ওই অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে পুঁজি করার চেষ্টা করছে পশ্চিমারা।

এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি পুরোনো বক্তব্য হঠাৎ করে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়, যা এখনো থামেনি। প্রশ্ন উঠছে—এই বক্তব্য কি নিছক রাজনৈতিক সতর্কবার্তা, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা?

কী ছিল সেই বক্তব্য

২০২৪ সালের ২৩ মে গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, একটি বিদেশি শক্তি বাংলাদেশে একটি বিমানঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একটি অংশ নিয়ে “পূর্ব তিমুর-এর মতো একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র” গঠনের চক্রান্ত চলছে।

তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ এবং সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, কিন্তু তার এই মন্তব্য পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্ম দেয়।

কেন নতুন করে আলোচনায়

শেখ হাসিনার বক্তব্যটি প্রায় দেড় বছর আলোচনার বাইরে থাকলেও, সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কিছু বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় এটি আবার সামনে আসে। ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ সংবাদদাতা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি অতীতে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধেও জড়িত ছিলেন এবং পরে ‘সনস অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যা বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতের গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনার সঙ্গে শেখ হাসিনার বক্তব্যের মিল খুঁজতে শুরু করে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে—তিনি যে “শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির” কথা বলেছিলেন, তা কি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত?

বাস্তবতা বনাম আশঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ায় একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের ধারণাটি নতুন নয়। বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সময় এই গুঞ্জন শোনা গেছে। তবে বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি কতটা সম্ভব? প্রথমত, জনসংখ্যার দিক থেকে দেখলে দক্ষিণ এশিয়ায় খ্রিষ্টানদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। শ্রীলঙ্কা ছাড়া অন্য কোনো দেশে তাদের সংখ্যা ৫ শতাংশের বেশি নয়। এই প্রেক্ষাপটে একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা সংখ্যাগতভাবে দুর্বল।

দ্বিতীয়ত, এ ধরনের রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী রাজনৈতিক আন্দোলন, সুসংগঠিত নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন। কিন্তু এ অঞ্চলের খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এমন কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দাবি বা আন্দোলনের প্রমাণ পাওয়া যায় না।

তাহলে গুঞ্জনের উৎস কোথায়?

গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের গুঞ্জনের পেছনে মূলত তিনটি বিষয় কাজ করে: ১. প্রান্তিকতা ও অনাস্থা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মিয়ানমারের চিন অঞ্চল এবং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম—এই অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়নবঞ্চনা ও রাজনৈতিক অনাস্থার সমস্যায় ভুগছে। অনেক জায়গায় সশস্ত্র বা অসশস্ত্র আন্দোলনও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মপরিচয় ও আত্মরক্ষার প্রবণতা বাড়ে, যা কখনো কখনো বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তার জন্ম দিতে পারে।

২. ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা: বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের অঞ্চল বর্তমানে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত—সবাই এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে, যদি এই অঞ্চলে একটি দুর্বল ও নির্ভরশীল রাষ্ট্র তৈরি করা যায়, তাহলে সেটিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা সহজ হবে—যেমনটি পূর্বে অন্যান্য অঞ্চলে দেখা গেছে।

৩. রাজনৈতিক বয়ান ও প্রচারণা: ভারতে কিছু ডানপন্থী ও হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই ইস্যুতে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও বিভিন্ন মতাদর্শিক গোষ্ঠী বিষয়টিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে।

ভারতের উদ্বেগ কেন

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো—নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয়—এগুলোতে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। ঐতিহাসিকভাবে এসব অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনেরও ইতিহাস রয়েছে। ভারতের জন্য এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ:

এটি চীন ও মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা 'চিকেন নেক' বা সিলিগুড়ি করিডোরের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে যেকোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা বা বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ভারতের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।

পশ্চিমাদের ভূমিকা—বাস্তব না ধারণা?

ভারতের কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য পরোক্ষভাবে কাজ করছে। তাদের মতে, একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠন করলে সেটি পশ্চিমাদের জন্য একটি কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ খুব কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো অনুমাননির্ভর বা গোয়েন্দা তথ্যের আংশিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় সরাসরি একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যা কেবল গোপন পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্ভব নয়।

‘পূর্ব তিমুর’ উদাহরণ কতটা প্রাসঙ্গিক

পূর্ব তিমুর-এর উদাহরণ প্রায়ই এই আলোচনায় টানা হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ২০০২ সালে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। তবে এই উদাহরণ সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তুলনীয় নয়। কারণ: পূর্ব তিমুরে দীর্ঘদিন ধরে সুসংগঠিত স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল, জাতিসংঘের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল, আন্তর্জাতিক সমর্থন ছিল ব্যাপক এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই তিনটি উপাদানই অনুপস্থিত।

শেখ হাসিনার বক্তব্য—রাজনৈতিক না কৌশলগত?

এই প্রশ্নের সরল উত্তর নেই। একদিকে এটি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে, যার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক চাপ বা প্রস্তাবের ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, এটি একটি সতর্কবার্তাও হতে পারে—যেখানে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির জটিল বাস্তবতা তুলে ধরতে চেয়েছেন।

ভারতের গণমাধ্যম এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে মূলত তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে। তারা এটিকে একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছে, যদিও এর বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত।

ভারত কি পারবে ঠেকাতে?

প্রশ্নের মূল জায়গাটি এখানেই। বাস্তবতা হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নতুন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ একেবারে নেই, তা নয়। ভারতকে মূলত তিনটি দিক সামলাতে হবে:

১. অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং আস্থার সংকট দূর করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ কমাতে না পারলে বাহ্যিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি হবে।

২. সীমান্ত নিরাপত্তা: মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

৩. কূটনৈতিক ভারসাম্য:  যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ এশিয়ায় একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র গঠনের ধারণা এখনো বাস্তবতার চেয়ে বেশি গুজব ও রাজনৈতিক বয়ানের অংশ। তবে এই গুঞ্জনের পেছনে যে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ, তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শেখ হাসিনার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় আসায় বিষয়টি আবার সামনে এসেছে, এবং এটি প্রমাণ করে যে বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের অঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেশি।

ভারত হয়তো বাস্তবে কোনো নতুন রাষ্ট্র গঠনের ঝুঁকির মুখে নেই, কিন্তু অঞ্চলটির অস্থিরতা, প্রান্তিকতা এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা—এই তিনের সমন্বয় তাকে সবসময় সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, “খ্রিষ্টান রাষ্ট্র” ধারণাটি যতটা না বাস্তব, তার চেয়ে বেশি একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বয়ান—যা দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ভূরাজনীতির। এত কিছুর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার খ্রিষ্টান সমাজ বা জনপদগুলো কি কখনো ধর্মভিত্তিক নতুন কোনো রাষ্ট্রের দাবি তুলেছে?

এর জন্য কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন আছে? এ রকম দাবির সপক্ষে খ্রিষ্টান সমাজের বা গির্জামণ্ডলীর কোনো ইশতেহার আছে? সচরাচর এসব প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাওয়া যায় না।

জে.এস/

খ্রিষ্টান রাষ্ট্র

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250