বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় *** খলিলুর রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতবিনিময় *** নেত্রকোনায় নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, মাদ্রাসাশিক্ষককে অব্যাহতি *** রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার প্রস্তাব ইউক্রেনের জেলেনস্কির *** আমার নিষ্পাপ শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে মেনে নেব না: অপ্রতিমের মা *** কওমি মাদ্রাসায় নির্যাতন ঠেকাতে সুরক্ষা কমিটি ও হটলাইন চালুসহ যেসব নির্দেশনা *** জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী *** জামায়াতকে ‘লংমার্চ’ স্থগিতের অনুরোধ শাহবাজের, দিলেন যে প্রস্তাব *** ‘শেখ হাসিনা কেন এখনো এনডিটিভির চোখে প্রধানমন্ত্রী’ *** গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত পুলিশের ব্যবস্থা দেখে

৬০ বছরে সাড়ে ৫ লাখ ইঁদুর মেরেছেন হোসেন আহম্মদ

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:০৫ অপরাহ্ন, ২৫শে নভেম্বর ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

ইঁদুর মানুষের মাঝে রোগবালাই ছড়ায়, ফসলের ক্ষেত নষ্ট করে, ধান-চাল থেকে শুরু করে থাদ্য সামগ্রীর ব্যাপক ক্ষতি করে। দেশের ও জনগণের লোকসানের জন্য কয়েকটি ইঁদুরই যথেষ্ট। ইঁদুর দমনে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। জানতে হবে মারার কৌশল। সে সকল কলাকৌশল অভিজ্ঞতা থেকে কয়েক লাখ ইঁদুর মেরে বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ হয়েছেন সোনাগাজীর এক কৃষক।

তিনি গনমাধ্যমকর্মীদেরকে জানান, তার অভিজ্ঞতার কথা, পাশাপাশি লোকজনের উপহাসের তোয়াক্কা না করে জিতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অনেক পুরস্কার, পেয়েছেন সুখ্যাতি, হয়েছেন প্রসিদ্ধ। গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে কৃষি বিভাগ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ইঁদুর নিধনের পুরস্কার নিচ্ছেন কৃষক মো.হোসেন আহাম্মদ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রতিবছর দেশে ইঁদুরের কারণে গড়ে ৫০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই ফসল ১ বছরে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের খাবারের জোগান দিতে পারত। নিজের জমিতে ইঁদুরের উৎপাত দেখে তরুণ বয়সেই বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন ফেনীর সোনাগাজীর কৃষক মো. হোসেন আহম্মদ। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ফাঁদ পেতে তিনি ইঁদুর ধরেন। প্রতিবছর ইঁদুর মেরে পুরস্কারও জেতেন তিনি। এর জন্য পেয়েছেন অর্ধশত কৃষি পুরস্কারও।

ইঁদুর মেরে পুরস্কার পাওয়া কিন্তু সহজ বিষয় নয়। ইঁদুর মারার জন্য হোসেন ব্যবহার করেন নিজস্ব কৌশল। প্রথমে বাঁশের কঞ্চি ও তার দিয়ে তৈরি করেন ফাঁদ। ফাঁদে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে শুঁটকি ও রুটি। সেই শুঁটকি ও রুটি খেতে এসে ইঁদুর ফাঁদে আটকা পড়ে। পরে বাঁশের ভেতর থেকে বের করে ইঁদুরগুলোকে মেরে ফেলেন।

সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের দশপাইয়া এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেন আহম্মদ। ইঁদুর মারছেন ২০ বছর বয়স থেকে। চলতি বছর তিনি ১২ হাজার ৫৮৯টি ইঁদুর মেরে জেলা ও উপজেলায় প্রথম এবং চট্টগ্রাম বিভাগে তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন। এভাবে বিগত ৬০ বছর ধরে তিনি প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষাধিক ইঁদুর মেরেছেন।

প্রত্যেক বছর কৃষি বিভাগ থেকে অক্টোবর থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মাসব্যাপী ফসল রক্ষায় ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায় থেকে দেশ সেরা ইঁদুর শিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ইঁদুর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। ইঁদুর নিজে যা খায় তার চেয়ে ১০ গুণ খাদ্য নষ্ট করে। এছাড়া ইঁদুর থেকে ৬০ ধরনের রোগ ছড়ায়। মূলত এ ক্ষতির পরিমাণ উপলব্ধি করেই ইঁদুর শিকারে উদ্বুদ্ধ হন কৃষক হোসেন আহম্মদ। হোসেন আহম্মদ পেশায় একজন কৃষক হলেও এলাকায় সবাই তাকে ইঁদুর শিকারী হিসেবে এক নামে চেনেন। ১৯৬৩ সাল থেকে এই কাজ করে আসছেন তিনি।ইঁদুর মেরে তিনি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কৃষি বিভাগ থেকে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার।

ইঁদুর শিকার হোসেন আহম্মদের পেশা না হলেও নিয়মিত কাজগুলোর একটি। জমি চাষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণকে তিনি ঈঁদুর মারার কৌশল শেখান। ঘরবাড়ি, দোকানপাট, হাঁস-মুরগির খামার কীভাবে ইঁদুরমুক্ত করা যায় দেন সে পরামর্শও। কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও প্রশিক্ষণেও তাঁর ডাক পড়ে।

ইঁদুর শিকারী হোসেন আহম্মদ বলেন, ইঁদুর হচ্ছে ফসল ও কৃষকের প্রধান শত্রু। কৃষি কাজ করতে গিয়ে তিনি এটি বুঝতে পেরেছেন। এরপর থেকে তিনি নিজস্ব কৌশলে ইঁদুর মারা শুরু করেন।

হোসেন আহম্মদ বলেন, তিনি চলতি বছর ১২ হাজার ৫৮৯টি ইঁদুর মেরে লেজ সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ইঁদুর নিধনে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখা। ইঁদুর নিধনে অবদান রাখার জন্য তিনি ১৯৬৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিয়মিত উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে অর্ধশতাধিক পুরস্কার লাভ করেছে।

ইঁদুর মেরে ফসল রক্ষার কাজ করে গেলেও হোসেনকে তাঁর এলাকায় অনেকের কাছে উপহাসের পাত্র হতে হয়েছে। অনেকেই তাঁকে ‘ইঁদুর মিয়া’ বলেও সম্বোধন করেন। তবে এসব একেবারেই গায়ে মাখেন না হোসেন। তার কথা, লোকে কী বলে তা শোনার ‘টাইম নাই’।

উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আজিজ উল্যাহ বলেন, ‘হোসেন আহম্মদ আমাদের সবার পরিচিত মুখ। সবাই তাঁকে একনামে চেনে। ইঁদুর নিধনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়ে তিনি আমাদের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। অথচ ইঁদুর নিধনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যদের উপহাসের পাত্র হয়ে গেছেন তিনি। আমরা কাজের মূল্যায়ন করতে জানি না। যে লোকটি ইঁদুর মারার কারণে সবার উপকার করে যাচ্ছেন, অনেকেই তাঁকে নানা ব্যঙ্গাত্মক নাম দিয়ে ডাকেন।’

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ইঁদুর প্রায় ৫০-৫৪ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮১ হাজার ৬৯৪টি ইঁদুর নিধন করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সোনাগাজী উপজেলা কৃষি অফিস প্রথম স্থান পুরস্কার লাভ করেছে প্রতিবছর সরকারিভাবে ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালিত হয়। ইঁদুর নিধনের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের কর্মী, কৃষক-কিষানি ছাত্রছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে কৃষক হোসেন আহম্মদ অসংখ্যবার শ্রেষ্ঠ ইঁদুরশিকারির পুরস্কার পেয়েছেন। আশা করি হোসেন আহম্মদ ভবিষ্যতে ইঁদুর নিধনে আরো জাতীয় পুরস্কার লাভ করবেন। তার অগ্রযাত্রায় সকলের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ জরুরি বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন।

ওআ/

ইঁদুর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়

🕒 প্রকাশ: ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

খলিলুর রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতবিনিময়

🕒 প্রকাশ: ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনায় নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, মাদ্রাসাশিক্ষককে অব্যাহতি

🕒 প্রকাশ: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার প্রস্তাব ইউক্রেনের জেলেনস্কির

🕒 প্রকাশ: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমার নিষ্পাপ শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে মেনে নেব না: অপ্রতিমের মা

🕒 প্রকাশ: ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250