ছবি: সংগৃহীত
‘এ সময়কালে আমরা সবচেয়ে বড় আন্দোলন করলাম দেশ বৈষম্যবিরোধী হবে বলে, কিন্তু আমরা কি সব বৈষম্যের কথা বলি? আমরা তো সব বৈষম্যের কথা বলি না। আমরা কোনো বৈষম্যের কথা বলি, কোনো বৈষম্যকে এড়িয়ে যাই।’
আজ বৃহস্পতিবার (২০শে মার্চ) রাজধানীর চীন–মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
এ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নারী ও পুরুষের বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে আমি তো লিঙ্গবৈচিত্র্যের কথা তো বলি না। আমি যখন জাতীয়তার প্রশ্নে কথা বলি, তখন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা তাদের জাতিসত্তার স্বীকৃতির কথা তো বলি না। যে সময়কালে আমরা নতুন আত্মস্বীকৃত জাতীয় সত্তাকে অনুসন্ধানে নেমেছি, তখন আমি বহুত্ব বা বহুধরনের মানুষ নিয়ে যে আমাদের বাংলাদেশ, সেটার কথা তো সেভাবে মনে করি না।’
তিনি বলেন, ‘নারীর সব সুরক্ষার কথা কি আমরা বলি? তার আইনি সুরক্ষা বা আইনি উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কি আমরা সমানভাবে উচ্চারণ করতে পারি? কারণ হলো- যে জিনিসটা আগে সে রকমভাবে ছিল না, এখন এসেছে। এক ধরনের নৈতিক খবরদারি করার দায়িত্ব কেউ কেউ নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘সমাজে আগে দেখা না গেলেও এখন কেউ কেউ নৈতিক খবরদারি করার দায়িত্ব নিয়েছেন। তারা সংখ্যায় বেশি না হলেও তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ। এ কণ্ঠস্বরের মোকাবিলায় উদারনৈতিক সমাজের পক্ষের মানুষদের সোচ্চার হতে হবে।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ কণ্ঠস্বর মোকাবিলা করতে হলে সর্বজনীন মানবাধিকারের ভিত্তিতে যে উদারনৈতিক বহুত্ববাদী সমাজের কথা আমরা বলি, তার পক্ষের মানুষকে সোচ্চার হয়ে দাঁড়াতে হবে।’
ঘরে নিরাপদে বসে থেকে অন্য কেউ পরিবর্তন নিয়ে আসবে, এমন ভাবনাকে বোকামির নামান্তর বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেবপ্রিয় বলেন, ‘আমি নিরাপদে থাকব ঘরে আর আমার পক্ষে মানুষ পরিবর্তন করে দেবে, আবার ছাত্র–জনতা অভ্যুত্থান করবে, এটা মনে করা বোকামি হবে। প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।’
এইচ.এস/