ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে দেশটি থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য কিনবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্যও আমদানি করা হবে উত্তর আমেরিকার দেশটি থেকে। গতকাল সোমবার (৯ই ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্রয়ের তালিকায় বিমানের জন্য ১৪টি বোয়িং কেনার বিষয়টি যুক্ত করলে এই অঙ্ক আরও বড় হবে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, তারা বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষি পণ্যের জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা নিশ্চিত করবে। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও মোটরযান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) সরঞ্জাম, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, পোলট্রি, বাদাম ও ফলমূল।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হার বিদ্যমান ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক হার হবে শূন্য। এ ছাড়া মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের শর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দীর্ঘ ৯ মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর এই চুক্তি হলো।
চুক্তির আওতায় অশুল্ক বাধা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ক্ষেত্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সনদকে স্বীকৃতি দেবে ঢাকা।
এ ছাড়া শুল্ক প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, রি-ম্যানুফ্যাকচারড বা পুনরায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং সীমান্ত পারাপারের তথ্য লেনদেন অবাধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
চুক্তিতে বাংলাদেশ শ্রম সুরক্ষা জোরদার, পরিবেশ আইন প্রয়োগ এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় কঠোর মানদণ্ড অবলম্বনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পনির ও মাংস উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সংক্রান্ত বিধান মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
খবরটি শেয়ার করুন