ছবি: সংগৃহীত
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন মারা যান ২০০৯ সালের ২৫শে জুন। তার বয়স তখন ৫০। আজ ২৯শে আগস্ট তার জন্মদিন, বেঁচে থাকলে ৬৭ বছরে পা দিতেন তিনি। জীবন তাকে হাত ভরে দিয়েছিল ঐশ্বর্য। পেয়েছিলেন ১৫টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড।
লাখো ক্যাসেট আর সিডি বিক্রি হয়েছে তার। মাইকেল জ্যাকসন শুধু গান গাওয়া তারকা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেতা। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি বদলে দিয়েছিলেন সংগীতবিশ্ব। তথ্যসূত্র হলিউড রিপোর্টার, পিপল, ফোর্বস ও বিবিসি।
মৃত্যুর ১০ বছর পর একটি তথ্যচিত্রে নোংরাভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই পপ তারকাকে। তার বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’। জ্যাকসন তত্ত্বাবধায়কেরা মনে করেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য বহু বছর আগে মীমাংসিত একটি ঘটনাটিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে এইচবিও।
তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, মাইকেল জ্যাকসন ৭ ও ১০ বছরের দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। তারা এখন তিরিশের যুবক। ওয়েড রবসন কোরিওগ্রাফার আর জেমস সেফচাক টিভি অভিনেতা। কেবল তাদের ভাষ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছে ওই তথ্যচিত্র।
২০০৩ সালে মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। সে বছর পুলিশ তার ক্যালিফোর্নিয়ার খামারবাড়ি ‘নেভারল্যান্ড’-এ তল্লাশি চালায়। খামারবাড়িটির নামানুসারে তথ্যচিত্রের নামকরণ করা হয়েছে।
জ্যাকসনের তত্ত্বাবধায়কদের দাবি, তথ্যচিত্রে ওয়েড রবসন ও জেমস সেফচাককেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, জ্যাকসনের ঘনিষ্ঠরা সেখানে উপেক্ষিত। তথ্যচিত্রটি একপেশে। জ্যাকসন কখনোই শিশুদের সঙ্গে বাজে আচরণ করতেন না।
তথ্যচিত্রটি টেলিভিশনে প্রচারের পর থেকে জ্যাকসনের গান অনলাইনে বিক্রি ও শোনায় ভাটা পড়েছে। প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে অ্যালবাম বিক্রি। অনলাইনে তার অডিও-ভিডিওর চাহিদা কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। এমনকি রেডিওতে তার গানের প্রচার কমে গেছে ১৩ শতাংশ।
বেশ কয়েকবার দাম কমিয়েও বিক্রি করা যাচ্ছে না মাইকেল জ্যাকসনের আলোচিত সেই খামারবাড়িটি। ২০১৫ সালে বিক্রির জন্য নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চের দাম চাওয়া হয়েছিল ১০ কোটি ডলার। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরে দাম কমিয়ে একবার সেটি করা হলো ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার, পরে মাত্র ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে সেটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নেভারল্যান্ড নামটি বদলে নতুন করে এর নাম রাখা হয়েছে সাইকেমোর ভ্যালি র্যাঞ্চ। খামারবাড়িটির যৌথ মালিকানায় রয়েছে দ্য সান্তা বারবারা ও ক্যালিফোর্নিয়া হাউস নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।
জ্যাকসনের মৃত্যুর আগে ২ হাজার ৭০০ একরের ওই খামারবাড়িতে অনেক কিছু সংযোজন করা হয়। সেখানে আছে রেললাইন, অগ্নিসহায়তা কেন্দ্র, বিস্তীর্ণ বাগানসহ আরও নানা কিছু। ১৯৮২ সালে বিরাট এই বাগানবাড়ির স্থাপত্যশৈলীর নকশা করেছিলেন রবার্ট অলটেভার্স। ১৯৮৯ সালে জ্যাকসন এটি কিনেছিলেন ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে।
তারপর নিজের মতো করে তিনি সেটার নকশা বদলে নেন। বাড়িটির মূল দালানে আছে ছয়টি শোবার ঘর, নয়টি বাথরুম, একটি মাস্টার বেডরুম, দুটি মাস্টার টয়লেটসহ একটি চিলেকোঠা। ভেতরে লেক, সুইমিং পুলসহ খেলার ব্যবস্থা ছাড়াও আছে একটি বড় থিয়েটার হল।
খবরটি শেয়ার করুন