ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘এখন সরকার বলছে, সংস্কার করতে হবে। সংস্কার কী আমরা করিনি? শিক্ষানীতি, ওষুধ নীতি, উপজেলা পদ্ধতি- এ সবই সংস্কারের অংশ ছিল। এখন সংস্কারের জন্য বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করতে আনতে হয়। তারা কীভাবে সংস্কার করবে? তারা সংস্কারের প্রস্তাবনা দিতে পারে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সংসদ লাগবে। নির্বাচনের কথা উঠছে, কিন্তু কীভাবে নির্বাচন হবে? আদৌ নির্বাচন হবে কী না জানি না।’
শনিবার (৯ই আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জি এম কাদের-বিরোধী জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাদের কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাপার মহাসচিব ছিলেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার ঐকমত্যের সরকারে মন্ত্রী হন। দুই বছর পর এরশাদ সরকার থেকে বেরিয়ে গেলেও মঞ্জু জেপি নামে আলাদা দল করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে যান।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অপমানিত হচ্ছেন অভিযোগ করে মঞ্জু বলেন, ‘এ দেশের মানুষের সঙ্গে যারা সংগ্রাম করেছে, আন্দোলন করেছে, তাদের বাদ দিয়ে এখন দেশ কারা চালাচ্ছে? আমেরিকা, লন্ডন, জাপানে যারা ছিল—তাদের এনে সংস্কার করছে। বাস্তবায়ন করবে কে?’
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে গঠিত সরকারে মন্ত্রী হন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। রাতের ভোটখ্যাত ২০১৮ সালের নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হয়ে ষষ্ঠবারের মতো এমপি হন। ডামি নির্বাচনখ্যাত ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিজের একসময়কার ব্যক্তিগত সচিবের কাছে হেরে যান তিনি।
৫ই আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পুলিশ আটক করেছে খবর পাওয়া গেলেও, পরবর্তীতে জানা যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মঞ্জু বলেন, ‘এখন রাজনীতি কোথায় আছে, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’
আগামী নির্বাচনে ‘অনিয়মের’ আশঙ্কা করে মঞ্জু বলেন, ‘অমুককে নির্বাচন করতে দেবে না, তমুককে নির্বাচন করতে দেবে না। আন্দোলনটা ছিল মানুষের অধিকারের ব্যাপারে। তাদের মৌলিক অধিকারের জন্য। কিন্তু, আজকে মৌলিক অধিকারের কথা কেউ বলে না, বাকস্বাধীনতার কথা বলে না, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলে না।’
খবরটি শেয়ার করুন