ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। বদলে যায় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা। বদলে যায় ক্ষমতার কেন্দ্রও। আর সেই সঙ্গে অনেকের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থানেও রাতারাতি দেখা যায় বড় পরিবর্তন। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো বক্তব্য মুছে ফেললেন। কেউ পুরোনো ছবি সরিয়ে দিলেন। কেউ আবার নতুন রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নিলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেও এমন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে এখন টেলিভিশন উপস্থাপিকা সোনিয়া হক।
ডিবিসি নিউজ ও গাজী টিভিতে কাজ করেছেন সোনিয়া। বর্তমানে তিনি দেশ টিভিতে কর্মরত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিওতে তাকে স্ক্রিপ্টের বাইরে এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতিহীন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরেও প্রশংসাসূচক বক্তব্য দিতে দেখা যায় তাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পুরোনো কর্মকাণ্ড নিয়েও এখন নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সুখবর ডটকমের হাতে থাকা সংরক্ষিত পোস্ট, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৫ আগস্টের আগের সময়ে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি তার প্রকাশ্য অবস্থানে ছিল প্রবল সমর্থনের ছাপ। এসব কনটেন্টের সংখ্যা কমপক্ষে অর্ধশতাধিক, যা সুখবর ডটকমের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা দলের সঙ্গে ছবি থাকা বা কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একাই, বা সবসময় রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ নয়। তাই সোনিয়া হকের অবস্থান মূল্যায়নে শুধু ছবি নয়, তার নিজের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, অনুষ্ঠান পরিচালনার ধরন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
সুখবর ডটকমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সোনিয়া হকের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল। বিশেষ করে তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিতর্কিত মেয়র ও পলাতক শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন ছবি ও তথ্য সামনে এসেছে।
শেখ ফজলে নূর তাপস ছিলেন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ২০১৯ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তিনি। সোনিয়া হককে ঘিরে অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটি সাংগঠনিক পদ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল তার—এমন তথ্য পেয়েছে সুখবর ডটকম। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তার তৎপরতার তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এ নিয়ে আলোচনার তথ্য অনুসন্ধানে এসেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ওই পদ পেয়েছিলেন—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য নথি সুখবর ডটকমের হাতে নেই। বরং জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সেই সম্ভাবনার ইতি ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এরপর তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন। কারণ, বিএনপির তখন ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
সোনিয়া হকের রাজনৈতিক অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নয়। এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশের চেষ্টা এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পর্কের নানা চিহ্ন। এখন তিনি কথিত বিএনপিপন্থী। টক শোতে বিএনপি নেতাদের নাম উচ্চারণের সময় আগে যেখানে কয়েকটি নেতিবাচক বিশেষণ ব্যবহার করতেন, এখন করছেন তাদের প্রশংসা।
ডিবিসি নিউজের সাবেক একজন প্রযোজক, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, সুখবর ডটকমকে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ে সোনিয়া যতদিন ডিবিসিতে টক শো করেছেন, ততদিন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলটির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের কাছ থেকে সমালোচনামূলক বক্তব্য বের করার প্রবণতা ছিল তার। সূত্রের দাবি, অনুষ্ঠান সম্পাদনার ক্ষেত্রে অনেক সময় সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তও তিনি মানতে চাইতেন না।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত বদলাতে থাকে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেই পরিবর্তন চূড়ান্ত হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সও বলেছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক সরকারগুলো গণমাধ্যমকে নিজেদের যোগাযোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের ২০২৬ সালের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বেসরকারি গণমাধ্যমের বড় একটি অংশের মালিকানা অল্পসংখ্যক ব্যবসায়ীর হাতে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য সুবিধার ওপর নির্ভরশীল।
এই বাস্তবতার মধ্যেই ৫ আগস্টের পর সোনিয়া হকের প্রকাশ্য অবস্থানে পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। সুখবর ডটকমের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর তার পুরোনো কিছু রাজনৈতিক পোস্ট আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যমান ছিল না। তবে আওয়ামী লীগপন্থী বক্তব্য এবং বিএনপিবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে এমন কয়েকটি পোস্টের সংরক্ষিত ছবি ও কনটেন্ট সুখবর ডটকমের হাতে রয়েছে।
অর্থাৎ রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয়ও বদলানোর চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। আরেকটি প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্টের পর সোনিয়া হকের রাজনৈতিক যোগাযোগ কোন দিকে গেছে?
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এরপর বিএনপির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, বিএনপিপন্থী বক্তব্যের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা এবং দলটির রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশের চেষ্টার তথ্যও সুখবর ডটকমের অনুসন্ধানে এসেছে।
সোনিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের কিছু প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডও সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে রাজনৈতিক ভাষা ও অবস্থান প্রকাশ্যে দেখা গেছে, তার সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের পার্থক্য কতটা—সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
তবে রাজনৈতিক মত পরিবর্তন নিজে কোনো অপরাধ নয়। একজন মানুষ তার রাজনৈতিক মত বদলাতেই পারেন। একজন সাংবাদিকও ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় থেকে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলানো এবং একই সঙ্গে সেই পুরোনো অবস্থান মুছে ফেলার চেষ্টা করলে প্রশ্ন উঠবেই। কারণ সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর সাংবাদিকতা শিক্ষার নীতিমালায় সত্য, ন্যায্যতা, সততা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও জবাবদিহিকে সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকের রাজনৈতিক পক্ষপাত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই সংবাদমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। কোথাও সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে। কোথাও বিজ্ঞাপন বা ব্যবসায়িক সুবিধা ব্যবহার করে চাপ তৈরি করা হয়। কোথাও আবার মালিকানা কাঠামোর মাধ্যমে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে একাধিক দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক প্রতিবেদনে বলেছে, সরকারি বিজ্ঞাপন অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়া বা ‘ব্রাউন এনভেলপ’ দেওয়ার মতো চর্চাও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অর্থাৎ দেশের সমস্যা একেবারে অনন্য নয়। অন্যান্য দেশেও ক্ষমতা, অর্থ ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে সংকট আছে। তুরস্কের ক্ষেত্রে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলছে, দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ জাতীয় গণমাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে।
কিন্তু গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার আদর্শ অন্য কথা বলে। সরকার বদলালে সাংবাদিকের নীতি বদলানোর কথা নয়। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক বদলানোর কথাও নয়। বরং সরকার বদলালেই সাংবাদিকের কাজ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নতুন সরকারকেও প্রশ্ন করতে হয়। পুরোনো সরকারকেও করতে হয়। বাংলাদেশের বাস্তবতা অবশ্য আরও কঠিন।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৬ সালের বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থানে রয়েছে। স্কোর ৩৩ দশমিক ০৫। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ধারাবাহিক সরকারগুলো গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক যোগাযোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে অনেক বেসরকারি গণমাধ্যমের সরকারি বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সিপিজেও বলেছে, বাংলাদেশে এক সরকারের পতনের পর আরেক সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক পক্ষপাতের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংগঠনটি ২০২৬ সালে সতর্ক করে বলেছে, সাংবাদিকদের তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বা ধারণাকৃত রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিচার বা হয়রানি করা উচিত নয়।
এখানেই সমস্যাটি দ্বিমুখী।
একদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতা সাংবাদিকদের ব্যবহার করতে চায়। অন্যদিকে কিছু সাংবাদিকও ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে চান। কেউ পদ চান। কেউ সরকারি সুবিধা চান। কেউ প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা চান। ফলে তৈরি হয় এক ধরনের পারস্পরিক নির্ভরতা। ক্ষমতায় যে দল, তার সঙ্গে দ্রুত সখ্য গড়ে তোলা তখন পেশাগত কৌশল হয়ে দাঁড়ায়। সরকার বদলালে সেই কৌশলও বদলে যায়। সোনিয়া হকের ঘটনাকে সেই বৃহত্তর বাস্তবতার বাইরে দেখার সুযোগ নেই।
সুখবর ডটকম ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তাদের মধ্যে কারা রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন, কারা পুরোনো বক্তব্য মুছে ফেলেছেন, কারা নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছেন—এসব বিষয় পর্যায়ক্রমে প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশিত হবে। সোনিয়া হক সেই অনুসন্ধানের একজন।
সুখবর ডটকমের এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য কাউকে রাজনৈতিক মত প্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা নয়। প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক আদর্শ কি সত্যিই বদলেছে? নাকি ক্ষমতার কেন্দ্র বদলানোর সঙ্গে সুবিধার হিসাব বদলেছে? সোনিয়া হকের ক্ষেত্রে ৫ আগস্টের আগে এবং পরে প্রকাশ্য অবস্থানের পার্থক্য সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে।
আরেকটি প্রশ্নও আছে। পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান মুছে ফেলার চেষ্টা কেন? যদি রাজনৈতিক মত পরিবর্তন স্বাভাবিক হয়, তাহলে পুরোনো বক্তব্য রেখে নতুন অবস্থান ব্যাখ্যা করাই তো স্বচ্ছতার পথ।
এসব বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সোনিয়া হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে সুখবর ডটকম। তার কাছে পুরোনো পোস্ট মুছে ফেলার কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান, শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে যোগাযোগ, মহিলা আওয়ামী লীগের পদ পাওয়ার বিষয়ে তৎপরতা এবং ৫ আগস্টের পর বিএনপির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পালাবদনের সঙ্গে যদি সাংবাদিকের নীতি পাল্টে যায়, তাহলে ক্ষতি শুধু ওই সাংবাদিকের নয়। ক্ষতি হয় পুরো পেশার। একজন সাংবাদিক আজ ক্ষমতাসীন দলের প্রশংসা করবেন, কাল ক্ষমতা বদলালে সেই দলের সমালোচক হয়ে যাবেন—এমন দৃশ্য বারবার দেখা গেলে সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা কমে। তখন মানুষ সংবাদকে তথ্য হিসেবে নয়, রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে দেখতে শুরু করে। এটি গণতন্ত্রের জন্যও বিপজ্জনক।
কারণ একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কাজ কোনো সরকারের পক্ষে থাকা নয়। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। নাগরিককে তথ্য দেওয়া। অন্যায় হলে তা প্রকাশ করা। সরকার বদলালেও সেই দায়িত্ব বদলানোর কথা নয়। সোনিয়া হকের ঘটনাটি তাই শুধু একজন উপস্থাপিকার রাজনৈতিক অবস্থান বদলের গল্প নয়। এটি দেশের গণমাধ্যমে আরও বড় একটি প্রশ্নের প্রতিচ্ছবি। ক্ষমতা বদলালে কি সাংবাদিকের অবস্থানও বদলাবে? নাকি সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী থাকবেন সাংবাদিকই—ক্ষমতা যারই হোক, প্রশ্ন করবেন তাকেই?
খবরটি শেয়ার করুন