ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থের বড় অংশ অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যয় করা হয়েছে। তবে ওসি দাবি করেছেন, একটি চক্র তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এসব লেনদেন করেছে। এ বিষয়ে তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজ শনিবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওসি ইমাউল হক গণমাধ্যমে বলেন, একটি চক্র তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এসব লেনদেন করেছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং তদন্ত চলমান। তদন্তাধীন অবস্থাতেও তার অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ২০শে ডিসেম্বর থেকে ৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ইমাউল হকের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে অন্তত ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে।
সাতটি ভিন্ন বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে তার নম্বরে এসব অর্থ পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লেনদেনের ধরন স্বাভাবিক নয়। অর্থ পাঠানো কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আবার পুলিশ সদস্যদের নম্বরের সঙ্গে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বাহিনী ও বাহিনীর বাইরে বেশ আলোচনা চলছে।
তথ্যগুলো বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ/নগদ এজেন্ট দোকান থেকে গত দুই মাসে ওসির নম্বরে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। ওই থানাতেই কর্মরত কনস্টেবল আমজাদের নম্বর থেকে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা।
এ ছাড়া নাসিম নামে এক বাড়িওয়ালার নম্বর থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা, মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং খালেক নামে এক ব্যক্তির নম্বর থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা পাঠানো হয়েছে।
আবার ‘লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ’ নামে নিবন্ধিত একটি নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা এবং মিজানুর নামে আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
নথিপত্র বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রাপ্ত এসব অর্থ এপিআই পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটে পাঠানো হয়েছে।
তার অ্যাকাউন্টে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নম্বর থেকে কেন টাকা পাঠানো হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। তবে নিজের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন।
অর্থ লেনদেনে জড়িত অন্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তারা বাইরে দায়িত্বে ব্যস্ত রয়েছেন বলে থানা থেকে বলা হয়েছে। অনলাইন জুয়ার সাইটে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে পুনরায় জানতে চাইলে ওসি দাবি করেন, তিনি এ ধরনের কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন। তার মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এ কাজ করেছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
খবরটি শেয়ার করুন