রবিবার, ১লা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতা দিবস পালন করতে নেতাকর্মীদের আহবান শেখ হাসিনার *** শিগগিরই নতুন সর্বোচ্চ নেতা পাবে ইরান, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** এক বছর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন ড. ইউনূস *** ইসলাম ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান গার্দিওলার *** গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদে আলি রেজা আরাফি *** সাইপ্রাসের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান *** নিজ দপ্তরেই মারা যান খামেনি, কখন মৃত্যু হয়—জানাল ইরান *** খামেনিকে হত্যা: বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মীর, শ্রীনগরে শোকের মাতম *** ৫ জেলার ডিসি প্রত্যাহার

যে সিনেমাকে কেন্দ্র করে সম্রাট আওরঙ্গজেব বিতর্কে

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, ১৯শে মার্চ ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

মুহি আল-দীন মুহাম্মদ মুঘল বাদশাহদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ছিলেন। ১৭০৭ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের আহিল্যা নগরে একটি ছোট তাঁবুর ভেতরে যখন তার মৃত্যু হয়, তখন বয়স ৮৮ পেরিয়ে গেছে।

তার বাবা-দাদা-প্রপিতামহরা কেউ এত দিন বাঁচেননি বা এত লম্বা সময় ধরে মসনদে বসেননি। এমনকি তার মৃত্যুর পর পুরো মুঘল সাম্রাজ্যই কার্যত ছারখার হতে বসে। মুঘলদের শেষ শক্তিশালী বাদশাহকে ‘আওরঙ্গজেব’ নামেই আমরা বেশি চিনি।

আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর দীর্ঘ আড়াইশো বছর পর আজকের স্বাধীন ভারতের জন্ম। অথচ আজও ভারতের রাজনীতি ও সমাজজীবনে আওরঙ্গজেবের মতো ‘বিতর্কিত ঐতিহাসিক’ চরিত্র যে একটিও নেই, তা বলা যায় হলফ করেই। খবর বিবিসি বাংলার।

ভারতে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি রাজ্য- উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে আওরঙ্গজেব আজও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এ দুটি রাজ্যে আগাগোড়া তিনি একজন ‘ডিপলি ডিভাইসিভ' বা ‘গভীর বিভাজনমূলক’ চরিত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছেন। ‘হিন্দু-মুসলমান সংঘাতের প্রতীক’ হিসেবে তাকে তুলে ধরা হয় বারবার।

হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলোর চোখে আওরঙ্গজেব শত শত মন্দির ধ্বংসকারী, নিষ্ঠুর নির্যাতনকারী ও হিন্দুবিদ্বেষী এক শাসক। তবে ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মভীরু মুসলমান হিসেবে তার জীবনযাপন, শরিয়া আইনের প্রতি আনুগত্য বা তার প্রশাসনিক দক্ষতার দৃষ্টান্ত দিয়ে তাকে ভারতের ‘অন্যতম সফল ইসলামি শাসক’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টাও হয়েছে অন্য তরফে।

আওরঙ্গজেবকে ঘিরে বিতর্ক এতটাই যে, আজও দাক্ষিণাত্যের খুলদাবাদে তার সমাধিস্থলে যদি ভারতীয় কোনো রাজনীতিবিদ যান, তাহলে নিমেষে সেটা চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। ওই সাইটটির রক্ষণাবেক্ষণ করে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, তা সত্ত্বেও সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে হামেশাই।

এমনকি ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে ‘আওরঙ্গেজব রোড’ নামে যে অভিজাত রাস্তাটি ছিল, বিতর্কের মুখে এর নামও পাল্টে ফেলা হয় কয়েক বছর আগে। সচেতনভাবে মুছে ফেলা হয় ল্যুটিয়েন্স দিল্লিতে ব্রিটিশ জমানার সেই ইতিহাস।

উত্তরপ্রদেশের দাপুটে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কয়েক দিন আগে হুঁশিয়ারি দেন, ভারতের মুসলমানরা যদি ‘সভ্য-ভব্য’ হন, তাহলে তারা কখনোই সন্তানের নাম আওরঙ্গজেব রাখবেন না।

মহারাষ্ট্রে এখনও কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলে অবধারিতভাবে আওরঙ্গজেবের নাম টেনে আনেন রাজনীতিবিদরা। ‘আওরঙ্গজেবের আওলাদ’ বা ‘সন্তানরাই যে গণ্ডগোলের মূলে’, অতি সম্প্রতি এমন কথাও শোনা যায় রাজ্যের বিজেপি নেতাদের মুখে।

বাদশাহ আওরঙ্গজেবকে নিয়ে বিতর্কের এ ধিকিধিকি আগুনে সদ্য ঘৃতাহুতি দেয় বলিউডের একটি সিনেমা, এর নাম ‘ছাভা’।

‘ছাভা’ মুক্তির পর মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবিকে ঘিরে মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহর অশান্ত হয়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার (১৭ই মার্চ) রাতে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‘ছাভা’ মারাঠি শব্দ, এর অর্থ সিংহ শাবক। মারাঠা জাতীয়তাবাদের নায়ক ছত্রপতি মহারাজ শিবাজির পুত্র সম্ভাজি মহারাজকে বন্দী করার পর আওরঙ্গজেব কীভাবে অবর্ণনীয় অত্যাচার করে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন, সিনেমাটির মূল কাহিনি সেটা নিয়েই।

সুপারহিট এ ছবি মুক্তির পর মাসখানেক পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রায় হাজার কোটি রুপির বাণিজ্য করার পথে এগিয়ে যায়। সেই সঙ্গে আরও একবার আওরঙ্গজেবকে সিনেমাটি নিয়ে এসেছে ভারতের রাজনীতির ফোকাল পয়েন্টে!

‘ছাভা’তে নাম ভূমিকায়, অর্থাৎ মহারাজা সম্ভাজির চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড তারকা ভিকি কৌশল। এর চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে ছবিতে আওরঙ্গজেবের ভূমিকায় অভিনয় করা অক্ষয় খান্নাকে নিয়ে।

এ সিনেমা রিভিউ করতে গিয়ে অনেক চিত্র সমালোচক লেখেন, ছবিতে সম্ভাজিকে নির্যাতনের দৃশ্যগুলো এতটাই ভয়াবহ ও জীবন্ত ছিল যে, হলের ভেতরে অনেক বাচ্চা ছেলে-মেয়ে ভয়ে কেঁদে ফেলে।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও বহু দর্শক তাদের একই অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। ‘ছাভা’র একটার পর একটা শো-তে দেখা গেছে সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি।

‘ইন্ডিয়া টুডে’তে আরুশি জৈন লিখেছেন, ‘একজন নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী ও একই সঙ্গে দক্ষ শাসকের ভূমিকায় আওরঙ্গজেবের এমন চরিত্র শিরদাঁড়ায় ঠাণ্ডা স্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো। ছাভার মতো এত সংযত চিত্রায়ন আমরা আগে দেখিনি।’

আওরঙ্গজেব নাকি বন্দী সম্ভাজির ওপর মৃত্যুর আগে টানা ৪০ দিন ধরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিলেন। সিনেমার প্রয়োজনে সেটাকে ছোট করে তিনদিনে নামিয়ে আনা হয়েছে, তাতে পর্দার আওরঙ্গজেবের নৃশংসতা এতটুকু কমেনি।

এইচ.এস/



আওরঙ্গজেব

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250