ফাইল ছবি
রাষ্ট্র সংস্কারের নানা চেষ্টা, মব সন্ত্রাস, প্রাণঘাতী ভূমিকম্প, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা আর দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুসহ নানা ঘটনার পরম্পরায় শুরু হলো আরেকটি বছর। স্বাগতম ২০২৬।
খ্রিষ্টীয় ২০২৬ সালকে বরণ করে নিতে বুধবার রাত ১২টা বাজতে না বাজতেই ঢাকার আকাশে দেখা যায় বর্ণিল আলোর ঝলকানি। এবার এমন সময় নতুন বছর কড়া নাড়ল, যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে।
রাষ্ট্রীয় শোক থাকলেও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে ফটকা-আতশবাজি ফুটিয়েছে রাজধানীর একদল নাগরিক। অবশ্য ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। আতশবাজি বা ফটকা ফোটানোর কোনো ঘটনা জানা যায়নি। ফানুসও ওড়াননি কেউ।
বুধবার (৩১শে ডিসেম্বর) মধ্যরাত ১২টা বাজার আগ থেকেই দুটি একটি করে আতশবাজি ফুটাতে শুরু করেন অনেকেই। ঢাকা শহরের বিভিন্ন ছাদ থেকে ফোটানো হয় আতশবাজি। বিকট শব্দে এসব ফটকা ফুটেছে প্রায় ২০ মিনিট ধরে। রাজধানীর পুরান ঢাকার দিক থেকে শব্দ এসেছে বেশি।
আতশবাজির আলোয় আকাশ হয়ে উঠেছে রঙিন। অবশ্য ব্যতিক্রমী উদযাপনে মেতে উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। এছাড়াও পুলিশের কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে।
নতুন বর্ষকে স্বাগত জানাতে শিক্ষার্থীরা রাত ১২টার আগে থেকেই রাজু ভাস্কর্যসহ টিএসসি এলাকা ভিড় করেন। এরপর ১২টা বাজতেই কেউ উল্লাস করে, কেউ বা গান গেয়ে নতুন বর্ষকে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে অনেকেই নতুন বর্ষে ছবি তুলেছেন বন্ধু-পরিচিতদের সঙ্গে।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। বুধবার বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যেই এমন উদযাপনের সমালোচনা চলছে নেটদুনিয়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিকট শব্দে এমন ফটকা ফোটানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
শোকের এ সময়ে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর বরণে নানা বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছিল ডিএমপি। গত মঙ্গলবার ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “রাষ্ট্রীয় শোকের সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে।”
উন্মুক্ত স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি ও শোভাযাত্রা না করার কথাও বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। তবে শোকের আবহ ও এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও ঢাকায় রাতের আকাশে দেখা যায় রঙিন আলোর ঝলকানি, ফানুস ও গ্যাস বেলুন।
থার্টি ফার্স্ট নাইটে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো প্রবেশপথে। এসব পথ দিয়ে বুধবার রাতে বাইরের কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এবার নতুন বছরকে বিশ্বে সবার আগে স্বাগত জানায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় কিরিবাতি দ্বীপদেশের কিরিতিমাতি। এরপর নতুন বছরে শান্তি, আশা ও আশীবার্দের স্বপ্ন নিয়ে ২০২৬ সালকে বরণ করে নেয় টোঙ্গা ও নিউজিল্যান্ড।
খবরটি শেয়ার করুন