সোমবার, ১৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ক্ষমতায় এলেও তারেক রহমানের সামনে যে ‘বিপদ’ দেখছেন মাহফুজ আনাম *** তারেক রহমানকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি *** ‘ধর্মীয় পরিচয় এড়িয়ে প্রথাবিরোধী পরিচিতি তুলে ধরছে জামায়াত’ *** সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান *** জামিনের পরও ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ নিয়ে উদ্বেগ, আইনের শাসনের জন্য ঝুঁকি দেখছেন বার্গম্যান *** রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যা, আটক ১ *** লালমনিরহাটের ‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্টের’ কথোপকথনের অডিও ভাইরাল *** এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল *** দলীয় পদে থাকা কারাবন্দী ও মামলার শিকার সাংবাদিকদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে *** বৈষম্য, গ্রেপ্তার, মৃত্যু ও যুদ্ধের নীরব ভুক্তভোগী বাংলাদেশিরা

তারেক রহমানকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫১ অপরাহ্ন, ১৬ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি চিঠি লিখেছে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা। বাংলাদেশে ‘বিদ্যমান জরুরি মানবাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো’তে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ নয়টি অধিকারভিত্তিক সংগঠন এই চিঠি লিখে।

চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনার সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই চিঠি লিখছি। আপনি নিজেই যেমনটা স্বীকার করেছেন—এটি আপনার দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। আপনার পদক্ষেপগুলো আগামী বহু বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিদ্যমান জরুরি মানবাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো আপনার দৃষ্টি আকর্ষণে আমরা নয়টি অধিকারভিত্তিক সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখছি। আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো এবং আগের অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো আমরা স্বাগত জানাই, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার হবে।

উদাহরণস্বরূপ, জোরপূর্বক গুমের ঘটনা তদন্ত, বিচার ও প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এখনো নিখোঁজ অন্তত ২৮৭ জন মানুষের পরিবার উত্তর প্রত্যাশা করে অপেক্ষা করছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিভিন্ন কমিশন মূল্যবান সুপারিশ দিয়েছে, যা আপনার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পূরণে সহায়ক হবে। মামলার তদন্ত এবং ভবিষ্যৎ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংঘটিত বহু মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হয়েছে, তবুও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও নির্বিচার ও ব্যাপক আটকসহ কিছু লঙ্ঘন অব্যাহত ছিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিছুটা উন্নত হলেও সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর গ্রেপ্তার ও হামলার কারণে তা ঝুঁকির মধ্যে রয়ে গেছে।

জনতার সহিংসতার বৃদ্ধি আইনের শাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এমন এক পরিবেশে নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি, যেখানে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো তাদের স্বাধীনতা সীমিত করতে চায়।

চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীও লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে, যেমন চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল-এ হামলা বা নির্যাতনের ঘটনা। একই সঙ্গে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে, যারা কক্সবাজার-এর শিবিরগুলো এবং ভাসান চর-এ ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে জীবিকা বা শিক্ষার যথাযথ সুযোগ নেই এবং মানবিক সহায়তাও কমে যাচ্ছে।

আমরা উপলব্ধি করি যে, আপনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, যখন বড় ধরনের কৌশলগত, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চাপ বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও মানবাধিকারের জন্য বিশেষভাবে কঠিন। আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রতি সম্মান হুমকির মুখে, অর্থনৈতিক সংকট তীব্র, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের অধিকার বিপন্ন। যদিও প্রতিটি সরকারেরই নিজ দেশের সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হয়, তবুও এটি এমন একটি সময় যখন বাংলাদেশের উচিত শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মানবাধিকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।

চিঠিতে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, আপনার দায়িত্বকালকে ইতিবাচক পরিবর্তনের উত্তরাধিকার হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা আপনাকে আহ্বান জানাই, যার মধ্যে রয়েছে পদ্ধতিগত সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। বিশেষ করে, নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে আমরা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এবং কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করছি।

সহজ রেফারেন্সের জন্য, মানবাধিকার মানদণ্ড রক্ষায় যেসব আইন ও অধ্যাদেশ সংশোধন বা বাতিল করা সবচেয়ে জরুরি, সেই তালিকা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা যেসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ অধিকারকে শক্তিশালী করে এবং সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন, তার তালিকাও শেষে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আমরা স্বীকার করি, সুপারিশগুলোর এই তালিকা দীর্ঘ মনে হতে পারে। তবে বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার সুরক্ষার জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

চিঠিতে স্বাক্ষর করা মানবাধিকার সংগঠনগুলো হলো—অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, সিভিকাস: ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, এফআইডিএইচ, ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট অ্যান্ড ইথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার এবং টেক গ্লোল ইনস্টিটিউট।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250