ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি নিশ্চিত করেছেন, ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলার মাস্টারমাইন্ড বা মূল পরিকল্পনাকারী বর্তমানে পাকিস্তানের হেফাজতে। গতকাল শনিবার (৭ই ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছেন, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন দায়েশের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যক্তির সঙ্গে হামলার সহায়তাকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, এই মাস্টারমাইন্ডের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ আছে। খবর জিও নিউজের।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন—হামলার পরপরই খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশোয়ার ও নওশেরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের আটক করা হয়।
গত শুক্রবার ইসলামাবাদের এক ইমামবাড়ায় নামাজ চলাকালে ভয়াবহ এই হামলা ঘটে। এতে অন্তত ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত ওই ইমামবাড়ার প্রবেশপথে হামলাকারী প্রথমে গুলি চালায়। এরপর সে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।
সংবাদ সম্মেলনে মোহসিন নকভি বলেন, তিনি আবারও স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ‘এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পুরো অর্থায়ন ভারত থেকে করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, তাদের সব লক্ষ্যও ভারত থেকেই ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট বা সিটিডি হামলার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় সিটিডি ও অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে দলগতভাবে কাজ করেছে।
এই অভিযানের সময় খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের এক সদস্য নিহত হন। আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলেও জানান তিনি।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলাকারীকে কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে তাকে এখানে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ আফগানিস্তানে সম্পন্ন করা হয়েছিল।
মোহসিন নকভি অভিযোগ করেন, ভারত দায়েশসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, আগে একজন জঙ্গিকে ৫০০ ডলার দেওয়া হতো। এখন তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ ডলার করা হয়েছে।
তার দাবি, মে মাসে পরাজয়ের মুখে পড়ার পর ভারত তার সন্ত্রাসী বাজেট তিন গুণ বাড়িয়েছে। তবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা তাদের বাজেট দশ গুণ বাড়ালেও পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দমন করবে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানকে সব জঙ্গির ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শত্রু মানেই শত্রু। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যারা লড়ছে, তাদের আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ব যদি এখনই আওয়াজ না তোলে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।’
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীরা যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে, সেগুলো বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে জানানো হয়েছে। যদি তারা ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে অন্য বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
খবরটি শেয়ার করুন