ছবি: সংগৃহীত
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও পাঠকনন্দিত কলামিস্ট মাহবুব কামাল বলেছেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতিকে মনোনয়ন দিলেও সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পুরো জাতির রাষ্ট্রপতি হয়ে যান; তখন তার দলীয় পরিচয় কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতি একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদ।’
সম্প্রতি ইউটিউবভিত্তিক একটি টকশোতে তিনি এমন মন্তব্য করেন। মাহবুব কামাল উদাহরণ হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সমর্থনে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’ কিছু বিল স্বাক্ষর না করে ফেরত পাঠানো কিংবা রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব না মানার ঘটনাকে তিনি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে মাহবুব কামাল বলেন, ‘তাকে নির্দিষ্ট একটি দলের মনোনীত হিসেবে দেখা হলেও সংসদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি। তার পরও তাকে দলীয় পরিচয়ে বিচার করা হয়েছিল, যা তার মতে সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
মাহবুব কামাল বলেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে অধ্যাদেশ জারির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অজ্ঞাতসারে সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং প্রত্যাহার ও তার কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়টিকে তিনি বিচ্ছিন্ন করে রাখার শামিল বলে মন্তব্য করেন। এতে রাষ্ট্রপতি কার্যত জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগহীন অবস্থায় পড়েছেন বলে তার দাবি। বিদেশ সফর ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণ জানানো হলেও তা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
মাহবুব কামাল বলেন, ‘তিনি ব্যক্তিগতভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার চান না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের একটি সংকটময় সময়ে ভূমিকার জন্য তিনি ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞ; যদিও তার মতে, ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে তিনি কোনো বিচারপ্রক্রিয়ার পক্ষে নন।’
অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে মাহবুব কামাল বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদন (রেটিফিকেশন) না পেলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তার মতে, যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে, তারা নিজেদের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইবে না; ফলে অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে জনমত কোন দিকে যাবে—তা সময়ই বলে দেবে। ড. ইউনূসের ভূমিকা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে জনসাধারণ শুধু সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বিচার দাবি করবে—সে প্রশ্নও উন্মুক্ত রয়েছে।’
খবরটি শেয়ার করুন