শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বন্দুকের ভঙ্গিতে উদযাপন করে লালকার্ড দেখলেন ইসরায়েলি ফুটবলার *** ‘আমলাদের লেখা আইনের খসড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে’ *** জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার *** জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবার কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেই *** পাকিস্তান সফরে কবে যাবেন—জবাবে সাংবাদিকদের যা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান *** বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট, কী লিখেছেন *** সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে সংকল্প আরও দৃঢ় হোক, পদক্ষেপ তার চেয়ে দ্রুত: বিশ্বনেতাদের তারেক রহমান *** নিউইয়র্কে তারেক রহমান, সেখানেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠক *** এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব *** রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

বাউলের চর্যাগানে অসাম্প্রদায়িক চেতনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৩২ অপরাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৪

#

রবিউল হক

চর্যা পদকর্তাগণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বাংলায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার জয়ধ্বনি করে গেছেন হাজার বছর পূর্বে। মানবতার জয়গান করে গেছেন চর্যার ভাবসাধকেরা। মহাত্মা ফকির লালন তার রচিত অসংখ্য বাণীতে মানবতার মূর্ত প্রতীকরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। মধ্যযুগে চন্ডীদাসের বাণীতে শুনি মানবতার উদাত্ত আহবান। তিনি বলেছেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”। ফকির লালন বলেছেন, “মানুষ ভোজলে সোনার মানুষ হবি”। একটি অসাম্প্রদায়িক জাতি গঠনে মানবতার জয়গানে চর্যা ভাবসাধক চন্ডীদাস, ফকির লালন এবং বর্তমান ভাব সাধকগণ যেন একই সুতোয় গাঁথা।

মল্লারী রাগে রচিত চর্যার ৪৪তম পদে পদকর্তা কঙ্কন পা বলেছেন, “সুনে সুন মিলিয়া যবে, সঅল ধামঅ ঊইআ তঅবে”। অর্থাৎ, শূন্যে শূন্য যখন মিলিত, সকল ধর্ম তখন উদিত। বৌদ্ধদের মোক্ষ লাভের সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে নির্বাণ। সহজিয়া ঘরানার এই পদকর্তাগণ যে উচ্চমার্গীয় ভাবসাধক ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যখন একজন মানুষ তার সাধনার দ্বারা ষড়রিপু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পার্থিব চাওয়া-পাওয়া থেকে মনকে শূন্যে বিলিন করতে পারে তখনই তার প্রকৃত ধর্মের উদয় ঘটে। জাতি, ধর্ম, বর্ণের কোনো ভেদাভেদ যেখানে থাকবে না, মানুষকে ‘মানুষ’ হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা যেখানে থাকবে, সেখানেই কেবল অমলিন প্রসন্ন চিত্ত শূন্যে বিলিন হতে পারে। কঙ্কন পা আরও বলেছেন, “আসুহু চৌখন সঙবোহি, মাঝনিরোহে অনুঅড় বহি/ বিদু নাদ নঅই চিএ পঅইঠ, আন চাহন্তে আন বিনঅঠ”। অর্থাৎ, প্রকৃতির মাঝে তুমি সদাই বিরাজমান থেকেও কেন উত্তর খুজে পাও না?

আরও পড়ুন : বাউলের চর্যাগান—বাঙালির আদি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

এদিকে তত্ত্বজ্ঞান চিত্ত মাঝে প্রবিষ্ঠ না হওয়ায় এক হতে আরেকটি ক্ষতির সম্মুখিন হতে চলেছে। পদকর্তা কঙ্কন পা তাই ধর্মীয় বিভেদ, সংঘাত ও বৈষম্য ভুলে মানবসৃষ্টির নিগূঢ়তত্ত্ব অনুসন্ধানের উদাত্ত আহবান করে বলছেন, “যথা আইলেছি তঅথা জানঅ, মাসং থাহি সঅল বিহানঅ/ ভনই কঙ্কন কলএল সাআদে, সঅব বিচ্ছুরিলঅ তথতানাদে”। অর্থাৎ কঙ্কন বলতেছেন, তুমি যেখান থেকে এসেছ সেই নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে আগে জানো, তোমার মানবভান্ডেই সব বিরাজ করছে। সৃষ্টির এ রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারলে তোমার মনে যে নদী বহমান তাতে কলকল শব্দে সবকিছু নিমেষেই বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

চর্যাগান পূনর্জাগরণের একজন ভাবসাধক বলেছিলেন, “সবার আগে আমাদের দেহের বৈষম্য দূর করা দরকার, তবেই না বৈষম্যহীন মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবো’’। বাউল দর্শনে একটি অমর বাণী প্রবাদ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় যেখানে গোটা পৃথিবীর সব কিছুর সাথে মানব দেহের তুলনা করা হয়েছে। বাউল দর্শনে বলা হয়েছে, “যাহা আছে বিশ্ব ব্রমাণ্ডে, তাহা আছে মানব ভাণ্ডে”। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষই পারে এই পৃথিবীকে প্রশান্তিময় করে তুলতে। মানবিক মানুষ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে গেয়ে উঠুক মানবতার জয়গান। জনৈক বাউল সাধকের বাণীর সাথে সুর মিলিয়ে আমরা সকলে সমস্বরে গেয়ে উঠি-

“যদি সবাই হয় প্রকৃতির সন্তান, তবে কে হিন্দু আর কে মুসলমান?
কে বা বৌদ্ধ কে বা খ্রিস্টান? থাকো না মিলে মিশে……
এতো বিভেদ কেন মানুষে মানুষে?”।

রবিউল হক, লোক গবেষক ও শিল্পী

আই.কে.জে/



বাউলের চর্যাগান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

বন্দুকের ভঙ্গিতে উদযাপন করে লালকার্ড দেখলেন ইসরায়েলি ফুটবলার

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আমলাদের লেখা আইনের খসড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে’

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৩ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেমিফাইনালেই থামলেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব

🕒 প্রকাশ: ০৭:১১ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ অনেকে গ্রেপ্তার

🕒 প্রকাশ: ০৭:০২ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবার কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেই

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫০ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৬

Footer Up 970x250