ছবি: সংগৃহীত
গত শুক্রবার (২রা জানুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় অবস্থানকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসান ‘আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’—এমন বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বক্তব্যে তিনি শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনার ভিডিও ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কথা বলেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।
তিনি বলেন, বারবার আমরা শুনি, আলোচনা হয়, বলা হয় যে পুলিশের মনোবল ভেঙে গেছে। পুলিশের মনোবল কি আপনারা চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন? পুলিশকে মাহদী হাসানের নিচে বসিয়ে দিয়েছেন। মাহদী হাসানেরা আসবেন, পুলিশকে ধমকাবেন। তার বন্ধুবান্ধবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবেন। ওই বন্ধুবান্ধব কি অন্যায় করেছে, কি করেনি- তার কোনো প্রশ্ন কেউ করতে পারবে না। আপনারা তো পুলিশকে সেই জায়গায় নিয়ে বসিয়ে দিয়েছেন। বসিয়ে দিয়ে এখন আপনি আশা করছেন যে পুলিশের মনোবল চাঙ্গা হবে। কীভাবে চাঙ্গা হবে?
শনিবার (৩রা জানুয়ারি) ‘কথা’ নামের নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি। মাসুদ কামাল বলেন, ভাবুন, এখন যিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আছেন, তার সহকর্মীকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না, যদি বিচার না হয়, এই যে ভদ্রলোক এখন আছেন তিনি কি আর তার যে দায়িত্ব সে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হবেন? উনি ভাববেন কোনোদিন আমাকেও পুড়িয়ে দেবে, কোনো বিচার হবে না।
মাসুদ কামাল বলেন, আর যে পুড়াবে সে যদি জানে, তার কোনো বিচার হবে না, তাহলে সে আরো পুড়াবে। তাহলে এই যে অবস্থাটা আপনার করে রেখেছেন, ড. ইউনূস সাহেব (প্রধান উপদেষ্টা) একটা সরকার গঠন করেছেন, এই সরকারের যে অবস্থাটা করেছেন উনি, কাদের প্ররোচনায় করেছেন সেটা দেখছি। তারা এখন জামায়াতের লোক হয়ে গেছে। তারা এখন জামায়াতের পাঞ্জাবির পকেটে গিয়ে ঢুকছে, তারাই তো এ সমস্ত চাপ দিয়ে করিয়েছে।
তিনি বলেন, কোন দেশে আছেন? কোথায় আইন কানুন? একটা কথা মাথায় রাখবেন, যে পুলিশকে আপনি টাঙ্গিয়েছেন উল্টো করে, যে পুলিশকে আপনি গায়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন, যে পুলিশ থানায় বসেছিল তাকে পিটিয়ে মেরেছেন, তার যে সন্তান, তার যে পরিবার, তারা কিন্তু এই দেশেরই নাগরিক। সেই নাগরিকের প্রতি কি সরকারের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই?
তিনি বলেন, এই সরকার কার সরকার? তাদের (পুলিশ) সন্তান যারা আছেন, তারা কতটা কষ্টে আছেন, তাদের মানবতার জীবন, একটা পুলিশ কর্মরত অবস্থা যদি মারা যায়, তার যে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তা কি এই নিহত পুলিশের আত্মীয়স্বজন পাচ্ছেন? পরিবার পাচ্ছে? কেন পাচ্ছে না? পাওয়া কি উচিত না? তারা তো অর্ডার ফলো করছে, যার অর্ডার ফলো করছে তার কি হয়েছে? এইভাবে দেখতে দেখতে যে আইজিপি, তার হয়েছে পাঁচ বছরের সাজা। আর পুলিশের চলে গেছে জীবন। এটার নাম বৈষম্য বিরোধিতা।
তিনি আরো বলেন, এই বৈষম্যের সমাধান কে করবে? আমি তো মনে করি যে একটা প্রজন্মকে যখন আপনারা এরকম বৈষম্যের মধ্যে ঠেলে দেবেন, এই পুলিশ কর্মকর্তা ছেলেমেয়েরা কি এই সরকারের প্রতি, এই ঘটনার প্রতি এক ধরনের ঘৃণা, এক ধরনের ক্রোধ নিয়ে বড় হতে থাকবে না? কিসের বৈষম্যবিরোধী? আমিও দেখছি প্রতিটা পদক্ষেপে বৈষম্য।
খবরটি শেয়ার করুন