রবিবার, ২৫শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ফের সোনার দামে বড় পতন, ভরিপ্রতি যত হলো *** জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা *** ফ্রান্সে ৪ লাখ মানুষের বিক্ষোভ, বাড়ছে উত্তেজনা–সংঘর্ষ *** আজই ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প *** সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম-কানুন পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর *** টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ *** তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের প্রস্তাব *** সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের লাশ দাফনে বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার *** মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করে এসি ল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, পরিবারের দাবি মানসিক সমস্যা

বাবা ‘যুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে, যা বলছেন নেটিজেনরা

শাওন দত্ত

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, ১৭ই জুন ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কারণ, সংসদ সদস্যের দেওয়া বক্তব্যের পর তার জন্মসনদ ও নির্বাচনী হলফনামার তথ্য সামনে এনে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে তার বাবাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করলেন?

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) অংশ নিয়ে নিজের পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার বাবা ও দাদা যুদ্ধে শহীদ এবং তার পরিবারে বহু মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই—চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জনের ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা।”

তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা, প্রশ্ন ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ। অনেকেই তার বক্তব্যের ভাষাগত ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। তার বয়স বর্তমানে ৪৫ বছরের বেশি। তার বাবার নাম মো. আব্দুল কাদের সৈয়দী।

বিতর্কের মুখে মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আব্দুল মুনতাকিম বলেন, তিনি আক্ষরিক অর্থে তার নিজের বাবাকে যুদ্ধে শহীদ বোঝাতে চাননি। তার ভাষ্য, তার বাবা জীবিত আছেন এবং তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—তার বাবা ও দাদাদের মধ্যে যুদ্ধে শহীদ আছেন। তার দাদা ছিলেন তার বাবার চাচা।

তবে তার এই ব্যাখ্যার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা থামেনি। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এমন বিভ্রান্তির সুযোগ কেন তৈরি হলো।

লেখক আখতারুজ্জামান আজাদ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ বিষয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছেন, আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য অনুযায়ী তার দাদা ও বাবাকে ‘যুদ্ধে শহীদ’ বলা হয়েছে। তবে তার মতে, ‘শহীদ’ শব্দটি বিভিন্ন পক্ষের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকও এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে একজন আইনপ্রণেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করছেন। ফেসবুক ব্যবহারকারী রাকিব হাসান লিখেছেন, “ইতিহাসের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে শব্দ নির্বাচনে আরও সতর্ক হওয়া দরকার।” আরেক ব্যবহারকারী তানভীর আহমেদ লিখেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আবেগ থাকতে পারে, কিন্তু তথ্য ও বক্তব্যের মধ্যে মিল থাকা জরুরি। সংসদে বলা কথা সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা তৈরি করে।”

সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিষয়টি নিয়ে হাসির চেয়ে বেশি দরকার ইতিহাসের সত্যতা নিয়ে দায়িত্বশীল আলোচনা।”

আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য সামনে আসার পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির তৎকালীন ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আলবদর, রাজাকারসহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে জামায়াতের তৎকালীন নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা দণ্ডিত হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।  এছাড়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এসব বিচার ও অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানানো হয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ১৯৭১ সালের ভূমিকা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার—এসব বিষয় দেশের রাজনীতিতে এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত।

আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহারের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের মতো জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা ও ভাষার সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জামায়াতে ইসলামী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250