ফাইল ছবি
সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম-কানুন পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি সচিবালয়ের ভেতরে কয়েকটি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে নতুনভাবে ভাবতে সচিবালয়ের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের এ নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্তত তিনটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে সোম ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকে। গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধের দিন থাকার পরও বেশি লোকজনের উপস্থিতির বিষয়টি প্রধামন্ত্রীর চোখে পড়ে।
সেদিন পরিবেশ বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে ৬ নম্বর ভবনের ১৪ তলা থেকে নিচে নামার পর ভিড় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিনই সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (নিরাপত্তা), পুলিশের ডিসি ও এডিসিকে (সচিবালয়) সচিবালয়ে নিজ অফিসে ডেকে পাঠান সরকারপ্রধান।
দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা সচিবালয়ে দর্শনার্থী পরিদর্শনের বিভিন্ন দিক তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সচিবালয়ের পরিস্থিতি অবহিতকারীদের দুজন অফিসারের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারপ্রধান সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের সময় এবং সাপ্তাহিক দিনের সংখ্যা আরও কমানোর বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এই বিষয়ে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছি, ছুটির পর এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সময় দর্শনার্থীদের জন্য ঠিক করা যায় কি না, তা ভেবে দেখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সচিবালয়ের দর্শনার্থীদের প্রবেশের দিন দুই দিন করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছি আমরা।’ বর্তমানে সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের ভিজিটিং আওয়ার দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত।
এই বিষয়ে কাজ করছেন এমন আরেক অফিসার বলেন, ‘সচিবালয়ে অস্থায়ী পাস সব বাতিল করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় আছে, তবে এ বিষয়ে সবদিক বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব তৈরি করার কাজ চলছে।’
‘রাজনৈতিক কারণে সচিবালয়ে কিছু পাস সব সরকারের সময় ছিল, এখনো আছে। যদিও ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার পরিচয়ে তাদের পাস দেওয়া হয়, এই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব না, এটা রাজনৈতিক পর্যায় থেকে আসতে হবে’, বলেন ওই অফিসার।
তবে অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের পাসের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরও যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবরা সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য আজীবন পাস পেয়ে থাকেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, বর্তমানে সচিবালয় এবং সচিবালয়ের বাইরের কর্মচারীদের অন্তত ২৭ হাজার কার্ড আছে। প্রতিদিন ওটিপি দিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা আছে আড়াই হাজারের মতো দর্শনার্থীর।
এ ছাড়া সচিবালয়ের বিভিন্ন কাজে ঠিকাদার, ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অস্থায়ী পাস, সাবেক অফিসার ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজের জন্য অন্তত হাজার সাতেক পাস দেওয়া আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সচিবালয়ে দৈনিক ভিত্তিতে সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিবরা যথাক্রমে পাঁচটি, তিনটি ও দুটি পাস দিতে পারেন। এর বাইরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কোটায় ১০টি পাস দেওয়ার সুযোগ আছে।
তবে বিভিন্ন মিটিংয়ে অংগ্রহণসহ নানা কারণে বেশি সংখ্যক দর্শনার্থীর সচিবালয়ে প্রবেশের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্টদের সচিবালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।
সচিবালয় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেপিআইগুলোর একটি। আগের সরকারপ্রধানেরা মন্ত্রিসভার বৈঠকসহ কিছু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে করলেও নিয়মিত অফিস করতেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই তারেক রহমান সপ্তাহের প্রায় সবদিনই সচিবালয়ে অফিস করছেন, মাঝে-মধ্যে শনিবার কিছু বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করছেন। সরকারপ্রধান সচিবালয়ে অফিস করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দর্শনার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৯ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খবরটি শেয়ার করুন