ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সমন্বয় কমিটিতে ২ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারীর পদ পেয়েছেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইমরান হোসেন বাবলু। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় কর্মীরা।
গত শুক্রবার (৩১শে অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সইয়ে ৩৭ সদস্যের এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ইমরান কর্ণফুলী থানার জাফর হত্যা মামলার প্রধান আসামি। সম্প্রতি চেক প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান এই নেতা। তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান এবং ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
গত ১৩ই অক্টোবর রাতে নগরীর খুলশী এলাকা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন নেন। এর আগে ২৩শে ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে ইমরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমরান কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৪শে আগস্ট চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া ফকির মসজিদের সামনে স্থানীয় জাফর আহমদকে হত্যা করা হয়। ইমরানকে প্রধান আসামি করে কর্ণফুলী থানায় মামলা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়রা জজ আদালতে তার বিরুদ্ধে একাধিক চেক প্রতারণা মামলা বিচারাধীন।
নিহত জাফরের ছেলে মোহাম্মদ আবছার বলেন, বাবা হত্যার চার্জশিটভুক্ত প্রধান এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছে। এই ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। নানা সময়ে ইমরান আমাদের হুমকি দিত। কমিটিতে স্থান পেয়ে এখন সে আর বেপরোয়া হবে।
ইমরান হোসেন বাবলু বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা ভূমি বিষয়ে বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় আসামি করেছে। চেক প্রতারণার মামলাগুলোও ষড়যন্ত্রমূলক।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, কমিটির বিষয়ে চট্টগ্রামের দায়িত্বশীলেরা ভালো বলতে পারবেন। তবে অভিযোগ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে এনসিপি।
এ ব্যাপারে এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, কমিটি অনুমোদনের পর থেকে ইমরানের বিষয়ে অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন