শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঈদ ঘিরে জমজমাট রাজনীতি *** ব্যাংককে অধ্যাপক ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ *** 'কী কথা তাহার সাথে?' *** বিশ্ববাণিজ্যে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন *** আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা *** চাকরিপ্রার্থী না হয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার *** যারা 'ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ' চান, তাদের উদ্দেশ্যে যা বললেন ডেভিড বার্গম্যান *** আমেরিকা থেকে আমদানি পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ: প্রেস সচিব *** বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল আমেরিকা *** বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১২:১০ অপরাহ্ন, ২৬শে নভেম্বর ২০২৪

#

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

গত দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি প্রায় ৫০.৭৯ শতাংশ বেড়েছে। সেই হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। শতাংশের হিসাবে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসে দেশটি থেকে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড গার্মেন্টস (ওটেক্সা) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করা ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম এবং প্রথম স্থানে চীন। তবে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত (১০ বছরে) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির পরিসংখ্যান বলছে, চীনের পোশাক রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে কমেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ তাদের জায়গা দখল করেছে।

ওটেক্সার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গত দশ বছরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫০.৭৯ শতাংশ। ২০১৪ সালে যেখানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ৪.৮৩ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৩ বিলিয়ন ডলারে। তবে ২০২৩ সালে এই প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং রপ্তানি প্রায় এক চতুর্থাংশ কমে ৭.২৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ২২.০৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যার প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতে পড়েছে।

এদিকে, চীনের ২০১৪ সালের পোশাক রপ্তানি ছিল ২৯.৭৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালে কমে ১৬.৩২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক দশকের মধ্যে চীনের পোশাক রপ্তানি প্রায় ৪৫.২৪ বিলিয়ন ডলার কমেছে।

ভিয়েতনামের রপ্তানি ২০১৪ সালে ছিল ৯.২৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.১৮ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, গত দশ বছরে ভিয়েতনামের রপ্তানি  বেড়েছে ৫২.৯৬ শতাংশ। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোরও রপ্তানি বেড়েছে।

ভারতের পোশাক রপ্তানি ২০১৪ সালে ছিল ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৬৯ বিলিয়ন ডলারে। পাকিস্তানের রপ্তানি ১.৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২.০২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি ২০১৪ সালে ছিল ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ৩.৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, অর্থাৎ গত দশ বছরে ৩৩.৯৭ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, হন্ডুরাস ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি ১৩.৩১ শতাংশ, মেক্সিকোর ২৪.৬৬ শতাংশ, হন্ডুরাসের ৬.০৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি  ১৭.৯৯ শতাংশ কমেছে।

গত দশ বছরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। বাংলাদেশের সাশ্রয়ী উৎপাদন ক্ষমতা, উচ্চমানসম্পন্ন পোশাক এবং দক্ষ শ্রমশক্তি তাকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তবে, এ সাফল্য ধরে রাখতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নতুন বাজার প্রসারে মনোযোগ দেওয়া জরুরি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওআ/ আই.কে.জে/

পোশাক রপ্তানি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন