রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ের সঙ্গেও কুখ্যাত এপস্টেনের দেখাসাক্ষাৎ ছিল *** তারেক রহমানকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’ *** ক্ষমতায় গেলে ‘বিডিআর’ নাম পুনর্বহাল করবে বিএনপি *** পুলিশের এমন আগ্রাসী মনোভাবের কারণ কী, প্রশ্ন আজহারির *** যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির ২ শিক্ষককে বরখাস্ত *** ‘আসমানে ফয়সালা হয়ে গেছে তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী’ *** ‘বিএনপিকে খুঁজে বের করতে হবে দলটির ভেতরে জামায়াতের হয়ে কারা কাজ করছে’ *** গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়: বায়তুল মোকাররমের খতিব *** এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত *** গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব

আওয়ামীপন্থী ১৮ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করেন ইকবাল সোবহান!

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৯ অপরাহ্ন, ১৬ই জুলাই ২০২৫

#

ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় সরকারের ‘ইঙ্গিত ও সমর্থন’ থাকাকে সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ দায়ী করে আসছে। চাকরিচ্যুতির শিকার প্রায় সব সাংবাদিক আওয়ামী লীগের 'সমর্থক', বা দলটির 'শুভাকাঙ্খী' বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা আছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাদের কোনো হাত নেই, সরকার কারো মুখ বন্ধ করছে না। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, 'আমরা কোনো সাংবাদিকের চাকরি খাচ্ছিও না, কাউকে চাকরি দিচ্ছিও না।

এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সমর্থক অন্তত ১৮ জন সাংবাদিককে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত করেছেন সাংবাদিক নেতা ও আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে থাকা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন আরেক সাংবাদিক। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তবতায় ইকবাল সোবহানের অন্তত কোনো বক্তৃতা-বিবৃতি না থাকার বিষয়টিও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা করছেন ঢাকার অনেক সাংবাদিক। আওয়ামী লীগের আমলে আর্থিক সুবিধা পাওয়া অনেক সাংবাদিকই যেখানে কোনো কথা বলছেন না, সেখানে শুধু ইকবাল সোবহানের বিরুদ্ধে সমালোচনা কেন, এমন প্রশ্নও কেউ কেউ তুলেছেন।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি ইকবাল সোবহান ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন। আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে বেসরকারি টিভি ডিবিসির নিবন্ধন পান তিনি। দলটির মনোনয়নে সংসদ নির্বাচন করেন তিনি, তবে জয়ী হতে পারেননি। ৫ই আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের ‘সমর্থক’ সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের, গণহারে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনায় তার মতো সাংবাদিক নেতাও চুপ বলে অভিযোগ করছেন সাংবাদিকরা। এসব কারণে তাকে সামাজিক মাধ্যমে যথারীতি ‘কাঠগড়ায়’ দাঁড় করিয়েছেন সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবির।

বাংলা ইনসাইডারের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবির বলেন, 'ইকবাল সোবাহান চৌধুরী সাংবাদিক নেতা। তিনি বহুরূপী। ১৯৭৫ সালের পর এ ভদ্রলোক যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের নাগরিকত্ব চেয়ে দেওয়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। এরপরও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকদের নেতা হিসেবে বহাল তবিয়তে রাজত্ব করছেন আজও। সাংবাদিক সমাজকে কিছু দিতে না পারলেও দুই হাতে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।’ তিনি গতকাল মঙ্গলবার (১৫ই জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড নয়। তবে সুখবর ডটকম নিশ্চিত হয়েছে, অ্যাকাউন্টটি তিনিই পরিচালনা করেন।

বোরহান কবির লেখেন, ‘ইকবাল সোবহান চৌধুরী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন কয়েকবার, প্রতিবারই বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। সাগর-রুনি (সাংবাদিক দম্পতি) হত্যাকাণ্ড নিয়ে বহুমুখী ব‍্যবসা করেছেন। আওয়ামী লীগের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার পর এ ইস্যু নিয়ে মাঠগরম করেন। আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান (যার মাশুল এখনও আওয়ামী লীগকে দিতে হচ্ছে)।’ প্রসঙ্গত, ইকবাল সোবহানের একক 'কর্মকাণ্ডের মাশুল' দিতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে, এ বক্তব্যের সঙ্গে অনেক সাংবাদিকের দ্বিমত আছে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের আজকের অবস্থানের জন্য নানা কারণ দায়ী।

বোরহান কবিরের মতে, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলনের নাটক করে আর কেউ কিছু না পেলেও ইকবাল সোবহান চৌধুরী পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার পদ। ডিবিসি টেলিভিশনের নিবন্ধন, অবজার্ভার পত্রিকার মালিকানা। ডিবিসির বেশিরভাগ শেয়ার বিক্রি করে নিজের পকেট ভারী করেছেন তিনি। নামমাত্র চেয়ারম্যান হিসেবে মাসিক বেতন পান নিয়মিত। এ চ‍্যানেলে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘অবজার্ভার পত্রিকার কথা কি বলবো? ডেইলি স্টার, বা টিবিএস (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড) এর কথা বাদ দিই। এটা (অবজার্ভার) নিউ এজ কিংবা ঢাকা ট্রিবিউনের ধারে-কাছেও নেই। ৫ই আগস্টের পর এ মহান সাংবাদিক নেতা আছেন বহাল তবিয়তেই। জেলে আটক, চাকরি হারানো সাংবাদিকদের পক্ষে একটা বিবৃতি দেননি আজ পর্যন্ত। ফেনীতে নিজের মাদ্রাসার জন্য টাকা বরাদ্দ রাখেন; কিন্তু বেকার, অসহায় সাংবাদিকদের জন্য এক টাকা খরচ করেন না।’

বোরহান কবির বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর ডিবিসিতে তার হাতেই চাকরি হারিয়েছেন ১৮ জন সাংবাদিক। এ দুঃসময়ে তিনি আওয়ামীলীগের ঘোরতর সমালোচক। কিছু করতে বললেই “ফান্ড “ চান। ভাবতে অবাক লাগে, এ মতলববাজরা সাংবাদিকদের নেতা সেজে বসে আছেন বছরে পর বছর ধরে।’ সাংবাদিকদের জন্য কী করতে বলার প্রসঙ্গে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ফান্ড চেয়েছিলেন, ঘটনাটি কোন সময়ের, এ বিষয়ে নানাভাবে চেষ্টা করেও বোরহান কবিরের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি  নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। এ হত্যা মামলায় চলতি বছরের ১৩ই জানুয়ারি সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন টাস্কফোর্সের সদস্যরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছরের ২৩শে অক্টোবর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইকবাল সোবহানের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডও বাতিল করেছে সরকার।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250