শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জার্মানির শিল্পখাতে চীনের প্রভাব বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৩ অপরাহ্ন, ২২শে মার্চ ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

চীন শুধু জার্মানির ফল্কসভাগেন ও মার্সিডিজের মতো গাড়ির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই থেমে থাকেনি, দেশটির কেমিক্যাল ও প্রকৌশল খাতেও বাড়ছে চীনের উপস্থিতি। খবর ডয়েচে ভেলের। 

‘সেন্টার ফর ইউরোপীয় রিফর্মের’ (সিইআর) একটি প্রতিবেদন বলছে, জার্মানির শিল্প কারখানার কাঠামো বেশ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। যে কারণে আগামী পাঁচ বছরে শিল্প উৎপাদন কমে গিয়ে ৫৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জিডিপির ২০ শতাংশ হুমকিতে পড়তে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জার্মানি তার দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়ার জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনে। যে কারণে কেমিক্যাল ও ইস্পাতের মতো শিল্পের খরচ বেড়ে যায়। 

আর এ অবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে চীনের ‘মেড ইন চায়না ২০২৫' কৌশল, যা চীনের স্বল্পমূল্যের উৎপাদন থেকে উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্পে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সেটি জার্মানির মূল অর্থনৈতিক খাতের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করছে।

শুরুতে জার্মানি চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। কারণ, তারা প্রযুক্তিগতভাবে নিম্ন প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদনে সীমাবদ্ধ ছিল। বেইজিংয়ের শিল্পনীতি যখন থেকে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প যেমন মোটরগাড়ি, ক্লিন টেকনোলজি ও যন্ত্র প্রকৌশলে সম্প্রসারিত হয়েছে, তখন থেকে দেশটির প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে জার্মানিতে।

চীনের দ্রুত অগ্রগতি স্পষ্টতই অটোমোবাইল বা গাড়ির শিল্পে। জার্মান গাড়ি নির্মাতারা বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ধীরগতিতে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাপক ছাঁটাই ও দেশীয় কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে দেশটিতে৷

জার্মানির যন্ত্র প্রকৌশল খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শিল্প যন্ত্রপাতি রপ্তানির বৈশ্বিক বাজার কিছুটা হ্রাস পেলেও চীনে অর্ধেকেরও বেশি বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে।

জার্মান শিল্পগুলোর মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো চীনের ব্যাপক ভর্তুকি। ২০১৯ সালে চীনের শিল্প ভর্তুকির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২২১ বিলিয়ন ইউরো। যার মধ্যে রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, মোটরগাড়ি ও ধাতু শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে চীনের নির্মাতারা কম খরচে উৎপাদন করতে পারছেন, যা জার্মান নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

জার্মান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিগুলো চীনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বেশ হিমশিম খাচ্ছে। কারণ, চীন তাদের চেয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে পারে। চীনে ‘জার্মান চেম্বার অফ কমার্সের’ একটি জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি জার্মান সংস্থা মনে করছে, চীনের কোম্পানিগুলো পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠবে।

অর্থনীতিবিদরা জার্মানিকে পরামর্শ দিচ্ছেন, সব ক্ষেত্রে আধিপত্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টার পরিবর্তে ওষুধ, জৈবপ্রযুক্তি ও জ্ঞান-ভিত্তিক শিল্পের মতো যেসব ক্ষেত্রে এখনও জার্মানির শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, সেগুলোতে মনোনিবেশ করা। 

এইচ.এস/


চীন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন