ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হবে। শুক্রবার (৮ই আগস্ট) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশি-বিদেশি মহলে নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল।
রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় ব্যবহার হতে পারে এমন সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি বন্ধ করবে জার্মানি। ব্রিটেনও ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল-বিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, কিছু দেশ হামাসের পরিবর্তে ইসরায়েলের ওপর চাপ দিচ্ছে। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েলের ভেতরেও গাজায় বন্দী ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবার এবং বিরোধীদলীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এতে জিম্মিদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়বে। নেতানিয়াহুর জোটের ডানপন্থী মিত্ররা হামাস ধ্বংসের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে গাজা পুরোপুরি দখলের চাপ দিচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে, এতে অবশিষ্ট জিম্মিদের জীবন আরও বিপন্ন হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিড এই অনুমোদনকে ‘বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কট্টরপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোটরিচ নেতানিয়াহুকে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে ঠেলে দিচ্ছেন, যার ফলে জিম্মি ও সেনাদের মৃত্যু বাড়বে।
এর আগে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সেনাবাহিনী গাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শুক্রবারের বিবৃতিতে শুধু গাজা সিটি দখলের কথা বলা হয়েছে, পুরো গাজা দখলের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ নেই।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করেছে। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আভিভির মতে, গাজা সিটি দখল হলে নিয়ন্ত্রণের পরিমাণ ৮৫ শতাংশে পৌঁছাবে।
গাজা সিটি ‘গাজার হৃদয়’ হিসেবে পরিচিত। আভিভি বলেন, এটি প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং হামাসের চোখে এর পতন মানে পুরো হামাসের পতন। বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ মানুষ গাজা সিটিতে বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই বাস্তুচ্যুত। যুদ্ধের আগে হামাসের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এখানেই অবস্থান করত।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন