ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সেই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে দেশটি। আজ মঙ্গলবার (৩রা মার্চ) ইরানের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়—ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, সব ধরনের নৌযানের জন্য ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পথে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে।
ইরানে গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল সোমবার বিপ্লবী বাহিনীর কমান্ডারের উপদেষ্টা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেন। কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়া হবে।
ইরানি বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, ‘প্রণালি এখন বন্ধ। যদি কোনো জাহাজ এখান দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করে তাহলে বিপ্লবী রক্ষী ও নৌ সেনারা সেগুলো পুড়িয়ে দেবে।’
হরমুজ প্রণালিতে সব জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানি জেনারেলের
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহমেদ ওয়াহিদির পূর্বসূরি মোহাম্মদ পাকপৌর নিহত হন। সেই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাও মারা যান। সেদিন থেকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের জল্পনা চলছিল।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে—নৌপথে বহন করা বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ এবং সিএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—এই নৌপথ বন্ধ হলে তা তেল খাতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইরানের দক্ষিণ সীমান্তের এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ইরান জ্বালানি তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে। মূলত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এশিয়ার অন্যান্য দেশে তেল-গ্যাস রপ্তানি করা হয়।
ইতিহাস বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাণিজ্য বড় ধরনের ধাক্কা খায়। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ন্যুবার্জার বেরমান-এর জ্যেষ্ঠ পোর্টফোলিও ম্যানেজার হাকান কায়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের প্রভাবকে খাটো করে দেখার উপায় নেই।’
তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে তেল প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান হবে। তবে এক-দুই সপ্তাহ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে যে লোকসান হবে, বহন করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে যদি এক মাস বা এর বেশি সময় এটি বন্ধ থাকে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাবে।
খবরটি শেয়ার করুন