ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেছেন, ‘সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হলে শুরু থেকেই জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। কেন তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো এ নিয়ে বিস্ময় ও আলোচনা ছিল ব্যাপক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নগুলোর পেছনে বিভিন্ন অভিযোগ এখন সামনে আসতে শুরু করেছে।’
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ‘চ্যানেল মানচিত্র’-এ এসব কথা বলেন মঞ্জুরুল আলম পান্না। তিনি বলেন, ‘নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ৯ হাজার কোটি টাকার নয়-ছয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি কম্পিউটারের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যেখানে বাজারে ভালো মানের একটি কম্পিউটারের মূল্য সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। অথচ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।’
তিনি বলেন, এ ছাড়া কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয় বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) উপস্থাপনের সময় দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘নূরজাহান বেগমের তত্ত্বাবধানে নিয়োগ, বদলি, পরামর্শক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবু বিষয়গুলো জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও শুল্কসংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বলেছেন, এসব চুক্তি ও আর্থিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীত ও বর্তমান সব সময়ের অভিযোগই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। তাই জনস্বার্থে একটি স্বাধীন তদন্ত টিম গঠন করে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, এমন মত দিচ্ছেন অনেকেই।
খবরটি শেয়ার করুন