শনিবার, ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘হিন্দুরা মেঝে থেকে গোমূত্র চেটে খায়’— ইহুদি ধর্মপ্রচারকের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া *** এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে এইচএসসিতে অকৃতকার্যরা *** এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২% *** কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান *** ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের ১২ জনকে হারান হামেদ *** ‘বিশেষ বাহিনীর চাপে’ বন্ধ হলো রুশ সংবাদমাধ্যম নোভায়া গেজেতা *** এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ *** বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংবিধানে প্রণীত চার মূলনীতি পুনরুদ্ধারের দাবি বিএনপির সংসদ সদস্যের *** ‘দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারত্বের পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসেছেন’ *** মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান

মহাকাশচারীদের জীবন বাঁচাচ্ছে ৩০০ বছরের পুরোনো সেক্সট্যান্ট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:২০ পূর্বাহ্ন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, আপনি মঙ্গলের উদ্দেশে ভেসে যাচ্ছেন অসীম মহাশূন্যে। হঠাৎ এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মহাকাশযানের সব ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক নেভিগেশন বিকল হয়ে গেল। পৃথিবীর সঙ্গেও বিচ্ছিন্ন রেডিও যোগাযোগ। অন্তহীন অন্ধকারের বুক চিরে কীভাবে আবার ফিরে আসবেন প্রিয় গ্রহে? এ ধরনের চরম বিপদে আধুনিক এআই বা ডিজিটাল প্রযুক্তি সাহায্য করবে—এমন উত্তরই বেছে নেবেন আপনি। কিন্তু কথায় আছে, ওল্ড ইজ গোল্ড। তেমনই নাসার নভোচারীদের জীবন বাঁচাতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এক অ্যানালগ যন্ত্র। নাম তার সেক্সট্যান্ট। ১৭ শতকে সমুদ্রের বুকে নাবিকেরা তারা দেখে দিক নির্ণয়ের জন্য এটি ব্যবহার করতেন। মহাকাশে সেই পুরোনো যন্ত্রই এখন নভোচারীদের শেষ ভরসা। সূত্র: বিবিসি।

মহাকাশে এর সফলতার ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৬৬ সালে জেমিনি ১২-এর রাডার নষ্ট হলে নভোচারী বাজ অলড্রিন সেক্সট্যান্ট ব্যবহার করে পথ খুঁজে নেন। এরপর ১৯৭০ সালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর জিম লাভেল খালি চোখে এই যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করে অ্যাপোলো ১৩ মহাকাশযানকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ম্যানুয়াল সেক্সট্যান্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, জিরো গ্র্যাভিটিতেও এটি অত্যন্ত নিখুঁত হিসাব দেয়। ওরিয়ন স্পেসক্রাফটে আধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক অপটিক্যাল নেভিগেশন ব্যাকআপ হিসেবে থাকে।

তবে এটি ব্যর্থ হলে নভোচারীরা হাত দিয়ে চালানো সেক্সট্যান্ট ব্যবহার করবেন। যন্ত্রটির কোণগুলো গোল করে এবং দেয়ালে আটকে রাখার ফাস্টেনার যুক্ত করে এটিকে মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। এমনকি সেক্সট্যান্ট না থাকলেও কোনো তারা চাঁদ বা পৃথিবীর পেছনে কখন অদৃশ্য হচ্ছে, সেই সময় মেপে নভোচারীরা অবস্থান বের করতে পারেন। মঙ্গলের পথে চলাচল করার জন্য নির্দিষ্ট গ্রহাণু ও জেমিনি বা মিথুন রাশিচক্রের তারা দেখে পথ চেনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে নভোচারীদের।

নাসার ওরিয়ন স্পেসক্রাফট এবং আর্টেমিস মিশনের নেভিগেশন ম্যানেজার গ্রেগ হোল্ট বিবিসিকে জানান, পৃথিবী থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা তত কমে। তাই প্রাচীন এই তারা দেখা বা স্টার সাইটিং কৌশলই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান। কাঠের তৈরি প্রাচীন সরঞ্জাম হোক বা আধুনিক নক্ষত্র মাপার ক্যামেরা, মহাশূন্যে দিক বের করার মৌলিক নিয়মটি ৩০০ বছর ধরে একই রয়ে গেছে। এখনো নক্ষত্র দেখা, জ্যামিতিক হিসাব মেলানো এবং নিরাপদে ঘরে ফেরা—এই বৃত্তেই কাজ চলে যায়।

মহাকাশ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250