বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, ১ নম্বর সতর্কতা *** ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে আজ ভোট *** এমপি আব্দুল আজিজের ‘অশ্লীল ভিডিও’ ভাইরাল, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ *** ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে লুটপাটের সংস্কৃতিতে ঢুকেছি: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ *** ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড *** বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানি প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান *** উখিয়ায় ২৬ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ২০০ মিটার ঘিরে রাখার পরামর্শ *** সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী *** মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা *** ১৫০ কিমি গতিতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ গঠনের ‘চেষ্টা’ কি সফল হবে?

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, ১৭ই এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে “রিফাইন্ড” বা “পরিশুদ্ধ” আওয়ামী লীগ গঠনের ধারণা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনির মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিতর্কে।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, 'শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়ার পরে লোকজন বললো, সরকারের মেরুদণ্ড বলে কিছু নেই, এ সরকার পারে না। নিঃসন্দেহে শিরীন শারমিনকে দিয়ে তারা একটা খারাপ খেলা খেলতে চাচ্ছে। তারা তাদের পছন্দমতো একটা নতুন আওয়ামী লীগ খুলতে চাচ্ছে। পুরোনো আওয়ামী লীগ বন্ধ হয়ে গেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'যেমন শেখ হাসিনা চেষ্টা করেছিলেন নতুন বিএনপি করার জন্য, তৃণমূল বিএনপি করার জন্য। এখন তৃণমূল আওয়ামী লীগ বা নতুন আওয়ামী লীগ করার জন্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি। তবে তার মূল্যায়ন স্পষ্ট—"এই নতুন আওয়ামী লীগ সৃষ্টির চেষ্টা ফেইল করবে।" গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘শিরীন শারমিন চৌধুরী বা তার মতো যাদের নাম রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ, নতুন আওয়ামী লীগ এই নামে আসছে তারা আসলে কেউই রাজনৈতিকভাবে মাঠে পরীক্ষিত নন। শিরীন শারমিনকে নিয়ে যারা চেষ্টা করছেন, তারা ফেইল করবেন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। পরে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা দেশত্যাগ করেন। এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে—দলটি কি আত্মসমালোচনার পথে যাবে, নাকি পুরোনো অবস্থানেই থাকবে?দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দলটির ভেতরে আত্মসমালোচনার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ও আন্দোলনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সমালোচনা অব্যাহত থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে “রিফাইন্ড” বা “পরিশুদ্ধ” আওয়ামী লীগের ধারণা সামনে আসে—একটি সংস্কারকৃত, গ্রহণযোগ্য এবং নতুন নেতৃত্বভিত্তিক আওয়ামী লীগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “রিফাইন্ড” আওয়ামী লীগের ধারণাটি মূলত দুটি উৎস থেকে এসেছে: ১. আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক মহলের চাপ—বাংলাদেশে একটি “গ্রহণযোগ্য” রাজনৈতিক শক্তি তৈরির প্রেক্ষাপট

২. অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা—পুরোনো নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও বিতর্কিত ভাবমূর্তি।  গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে, আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং শিরীন শারমিন চৌধুরীর মতো তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে একটি “সফট” আওয়ামী লীগ গঠনের চিন্তা থাকতে পারে।

তবে এই আলোচনা বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ বা সাংগঠনিক আলোচনা আওয়ামী লীগের ভেতরে নেই।

‘রিফাইন্ড’ বা ‘পরিশুদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ধারণা নিয়ে দলটির ভেতরে কোনো আলোচনা নেই। নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়েও কোনো চিন্তাভাবনার কথা জানা যায়নি। এ বিষয়ে দলটির প্রধান নেতৃত্বের কোনো সায় আছে—এমন আভাসও পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের একটি কার্যকর বিকল্প কাঠামো তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। গোলাম মাওলা রনির মন্তব্যের সঙ্গে অনেক বিশ্লেষকই একমত। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে: ১. তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার অভাব: শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রশাসনিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হলেও সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে তার উপস্থিতি সীমিত। আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত তৃণমূলনির্ভর। সেখানে জনপ্রিয়তা ও সংগঠনগত শক্তি ছাড়া নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা কঠিন।

২. শেখ হাসিনার প্রতি অটুট আস্থা: আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীর কাছে এখনো একমাত্র গ্রহণযোগ্য নেতা শেখ হাসিনা। দলটির পরিচয়, ইতিহাস ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তার নেতৃত্বের সঙ্গেই জড়িত। ৩. দলীয় ঐক্যের প্রশ্ন: নতুন একটি “রিফাইন্ড” আওয়ামী লীগ গঠনের চেষ্টা করলে তা দল ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করবে। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগের মূল কাঠামো ভাঙার মতো কোনো প্রবল অভ্যন্তরীণ চাপ দেখা যাচ্ছে না।

৪. অতীত অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে “নতুন দল” বা “সংস্কারকৃত দল” তৈরির অনেক চেষ্টা হয়েছে—কিন্তু বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তৃণমূল বিএনপির কথা উল্লেখ করা হয়, যা শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারেনি।

দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট—“রিফাইন্ড” আওয়ামী লীগের ধারণাটি এখনো বাস্তব রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়; বরং এটি একটি আলোচনামাত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি “থিওরিটিক্যাল কনসেপ্ট”, বাস্তবে এর পক্ষে কোনো সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেই, দলীয় সমর্থন ছাড়া এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অনেকেই এটিকে “রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিং” হিসেবে দেখছেন—যেখানে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প শক্তি তৈরির চিন্তা থাকতে পারে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন কঠিন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে: ১. পুরোনো নেতৃত্বের পুনরাগমন: যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল হয়, শেখ হাসিনা নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করবে।

২. আংশিক সংস্কার: দলীয় কাঠামোর ভেতরে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে তা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাইরে নয়। ৩. বিকল্প শক্তির উত্থান: আওয়ামী লীগের বাইরে নতুন রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হতে পারে, কিন্তু সেটি “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ” হবে—এমন সম্ভাবনা কম।

সব দিক বিবেচনায় “রিফাইন্ড” বা “পরিশুদ্ধ” আওয়ামী লীগের ধারণাটি এখনো বাস্তবতার চেয়ে বেশি জল্পনা নির্ভর। শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠনের আলোচনা থাকলেও তার পক্ষে দলীয় সমর্থন, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো—কোনোটিই স্পষ্ট নয়।

গোলাম মাওলা রনির ভাষায়, “এই নতুন আওয়ামী লীগ সৃষ্টির চেষ্টা ফেইল করবে।” বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই মূল্যায়ন অমূলক নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আস্থা এখনো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অটুট। সেই বাস্তবতা পরিবর্তন না হলে “রিফাইন্ড” আওয়ামী লীগ কেবল আলোচনার বিষয় হিসেবেই থেকে যাবে, কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারবে না।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250