ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুকে ‘জুলাই ব্যবসায়ী’ ও ‘হাদী ব্যবসায়ী’দের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন।
অভিযোগে সিফাত একই বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। সিফাত আজ বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ‘জুলাই ব্যবসায়ী’ ও ‘হাদী ব্যবসায়ী’দের সমালোচনা করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি। তবে পোস্টে কিছু গালিসূচক শব্দ থাকায় পরে তিনি সেটি মুছে দেন।
সিফাতের ভাষ্য, এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার মানহানির মামলা করার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি জানতে ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন হয়। ওই সময় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে সিফাত দাবি করেন, তাকে বলা হয়েছে, ‘তুমি মঞ্চ-২৪-এর আহ্বায়ককে নিয়ে সমালোচনা করেছ। যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকো।’ এ ছাড়া ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের মাধ্যমে তাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার নামে ১০ লাখ টাকার মানহানির মামলা করা হবে এবং ‘প্রশাসন আমার পকেটে’—এমন কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন সিফাত।
এ বিষয়ে ফাহিম ফারুকীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আমি কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দিইনি। আমি যদি কাউকে হুমকি দিয়ে থাকি, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে আমার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’
ফাহিম বলেন, সিফাতের দেওয়া পোস্ট তিনি পড়েছেন এবং সেখানে তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বক্তব্য রয়েছে। তার দাবি, সিফাত বিভিন্ন সময় তাকে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। ‘জুলাই একটা ব্যবসা’—এ ধরনের মন্তব্যও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলেও জানান ফাহিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘আমি অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছি। অভিযুক্তের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে ঢাকায় আছে। দুজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’
সিফাত অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, হুমকির কারণে মানসিক শান্তি নষ্ট হচ্ছে এবং পড়াশোনাতেও বিঘ্ন ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা দেখা গেছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়ার সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খবরটি শেয়ার করুন