ছবি: সংগৃহীত
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় ‘ঠেকাতে নানা চেষ্টা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে—এ ভয়ে পলাতক স্বৈরাচার সরকার “বিএনপির বিজয় ঠেকাও”–এর মতো অন্তর্ঘাতী অপরাজনীতি চালু করেছিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের রাজপথের সহযোদ্ধা, কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরণেও সেই পলাতক স্বৈরাচারী সরকারের মতো “বিএনপির বিজয় ঠেকাও” প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।’
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আজ বৃহস্পতিবার (২১শে আগস্ট) বিকেলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে। কিন্তু আমরা খেয়াল করে দেখেছি, এ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বক্তব্য-মন্তব্য কিংবা নিত্যনতুন শর্ত, শর্তের প্রস্তাবনা সামগ্রিকভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপির বিজয় ঠেকানোর অপরাজনীতি করতে গিয়ে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশকে একটি তাঁবেদারি রাষ্ট্রে, একটি বিশাল বড় জেলখানায় পরিণত করেছিল। বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশেও যারা মনে করছেন নির্বাচন দিলে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনে সহায়তা করবে, যারা এ চিন্তা থেকে বিএনপির বিজয় ঠেকানোর জন্য নানা রকম অপকৌশল বা শর্তের বেড়াজালের আশ্রয় নিচ্ছেন, তাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করুন। জনগণের শক্তির ওপরে আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন। বিএনপির বিজয় যদি জনগণ দিয়েই থাকে, সেই বিজয় ঠেকাতে গিয়ে জনগণের রায় দেওয়ার পথ রুদ্ধ করবেন না।’
এই ‘অপরাজনীতির’ বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর দেশে এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সংসদ ও সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র উত্তরণের যাত্রাপথ ঝুঁকিমুক্ত নয়।
খবরটি শেয়ার করুন