রবিবার, ১লা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ইসলামি প্রজাতন্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান রেজা পাহলভির *** বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতা দিবস পালন করতে নেতাকর্মীদের আহবান শেখ হাসিনার *** শিগগিরই নতুন সর্বোচ্চ নেতা পাবে ইরান, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** এক বছর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন ড. ইউনূস *** ইসলাম ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান গার্দিওলার *** গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদে আলি রেজা আরাফি *** সাইপ্রাসের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান *** নিজ দপ্তরেই মারা যান খামেনি, কখন মৃত্যু হয়—জানাল ইরান *** খামেনিকে হত্যা: বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মীর, শ্রীনগরে শোকের মাতম

‘তারা যা বলেন’

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৭:১৪ অপরাহ্ন, ১লা মার্চ ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

দলদাস টকশো আলোচক, উপসম্পাদকীয় লেখক প্রায় সময় টিভির স্ক্রিন ও পত্রিকার কাগজ দখল করে রাখেন। অতীতে বিভিন্ন সময় তা দেখা গেছে। গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা অনুষ্ঠানের চেয়ারও থাকে তাদের দখলে। যে কোনো সরকার পরিবর্তনের পর তাদেরকে আর দেখা যায় না আগের মতো। তাদের জায়গা দখল করেন নতুন দলজীবীরা।

তবে দেশের বিশিষ্ট অনেক নাগরিক আছেন, যারা সব সরকারের সময় জাতীয় ও গণ-ইস্যুতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তারা যে কোনো সরকারের আমলে জনপ্রিয় থাকেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদেরকে আড়ালে-আবডালে যেতে হয় না। 

বিভিন্ন সরকারের আমলে তারা ইতিহাস থেকে ঐতিহ্য, সাহিত্য থেকে সংস্কৃতি, ভূতত্ত্ব থেকে ভূগোল, ধর্ম থেকে দর্শন, রাজনীতি থেকে অর্থনীতি এবং সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সরব থাকেন।

নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ, সত্য উচ্চারণের জন্য পাঠক ও দর্শকের প্রত্যাশাও তাদের কাছে বেশি থাকে। বিভিন্ন ইস্যুতে সঙ্কটময় মুহূর্তে তারা কী বলেন, এর অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। তেমন বুদ্ধিজীবীর তালিকায় প্রবীণ থেকে নবীন সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, লেখক ও টকশো আলোচক-উপস্থাপক রয়েছেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত তাদের লেখা, কোনো অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য বা, টকশোতে বলা কথা নিয়ে বৃদ্ধিবৃত্তিক সমাজে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হয়। চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তাদের মধ্যে অন্যতম  বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের’ (সিপিডি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

ছয় দফার খসড়া তৈরি ও ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ইশতেহার তৈরিতে যুক্ত ছিলেন তিনি।

তিনি জানান, ‘তার ছাত্র ছিলেন বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ।’

ওই তালিকায় আছেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, ত্রৈমাসিক নতুন দিগন্তের সম্পাদক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী যে কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং ফ্যাসিবাদ রুখতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত 'গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। জাতীয় নানা ইস্যুতে তিনি লেখালেখি করেন এবং গণমাধ্যমকে মতামত দেন।

তিনি সুখবরকে বলেন, 'রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা আসবে, তাদেরকেই চাপে রাখতে হবে। অতীতে মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জন ব্যর্থ হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।'

তালিকায় আছেন শিক্ষাবিদ ও আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। আরো আছেন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক ও ত্রৈমাসিক জার্নাল সর্বজনকথা’র সম্পাদক আনু মুহাম্মদ। তিনি বামদলের ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সভা-সমাবেশে অংশ নেন। টকশোতেও অংশ নেন।

অভিজ্ঞতা দিয়ে বর্তমানের পরিস্থিতির বিচার-বিশ্লেষণ করে যে কয়েকজন বুদ্ধিজীবী নানা বিষয়ে ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত করতে পারেন, তাদের মধ্যে সাংবাদিক মাহবুব কামাল অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে সাপ্তাহিক যায়যায়দিনে কার লেখা (যায়যায়দিনে যারা নিয়মিত কলাম লিখতেন) বেশি পড়েন, তা জানিয়ে চিঠি লিখতে পাঠকদের আহবান করেন সম্পাদক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমান। তসলিমা নাসরিন, আবদুল গাফফার চৌধুরীর চেয়েও তখন বেশি চিঠি আসে মাহবুব কামালের লেখার পক্ষে।

বিভিন্ন সরকারের আমলে জনপ্রিয় সম্পাদকদের মধ্যে আছেন ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবির ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

মাহফুজ আনাম টকশোতে তুলনামূলক কম অংশ নিলেও কলাম লেখেন। ডেইলি স্টারের জন্যে ইংরেজিতে লেখা ওই কলামের বাংলা অনুবাদ প্রচার হয় পত্রিকাটির বাংলা সংস্করণের ওয়েবসাইটে। মতিউর রহমান চৌধুরী নিজেই টকশোর দর্শকনন্দিত উপস্থাপক। নূরুল কবির প্রায় নিয়মিত টকশো আলোচনায় অংশ নেন।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে আওয়ামী লীগের সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই বছরের ৩রা আগস্ট তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে ২০১৬ সালে তিনি টানা আট মাস ব্রিটেনে থাকতে বাধ্য হন। একই সময় তার উপস্থাপনায় বাংলাভিশনের জনপ্রিয় টকশো 'ফ্রন্ট লাইন' বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জনপ্রিয়দের তালিকায় আরো আছেন লেখক-অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, চ্যানেল আইয়ের ‘তৃতীয় মাত্রার পরিচালক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান, সাংবাদিক-টকশো আলোচক মাসুদ কামাল এবং সাংবাদিক-উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন প্রমুখ।

হা.শা./




বুদ্ধিজীবী

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250